জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ পর্যালোচনা করে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী, ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তিনটিসহ মোট চারটি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাইয়ের জন্য রাখা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে বিশেষ কমিটির এই প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন কমিটির সভাপতি জয়নুল আবেদিন।
কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলো কোনো পরিবর্তন ছাড়াই পাসের সুপারিশ করা হয়েছে। এছাড়া বিশেষ পরিস্থিতিতে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক বসানোর ক্ষমতা এবং বিভিন্ন স্থাপনা থেকে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের নাম পরিবর্তন সংক্রান্ত অধ্যাদেশগুলোও হুবহু বিল আকারে সংসদে তোলা হবে। ফলে এসব অধ্যাদেশ বিনা বাধায় আইনে পরিণত হওয়ার পথে।
কমিটি ২০টি অধ্যাদেশ এখনই অনুমোদন না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে সরাসরি বাতিলের তালিকায় রয়েছে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয় সম্পর্কিত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ চারটি অধ্যাদেশ। বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের জন্য আলাদা প্রশাসনিক কাঠামো তৈরির যে পরিকল্পনা ছিলো, তা এখন বাতিলের মুখে পড়লো।
অন্যদিকে, ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তীতে উত্থাপনের কথা বলা হয়েছে। এই তালিকায় রয়েছে- গণভোট সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার সংক্রান্ত অধ্যাদেশ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন ও দুদক সংক্রান্ত অধ্যাদেশ ইত্যাদি।
এদিকে অনুমোদন না পাওয়া ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদীয় বিশেষ কমিটির ভেতরেই মতবিরোধ দেখা দিয়েছে। কমিটির বিরোধীদলীয় সদস্যরা এসব সিদ্ধান্তের বিপরীতে আনুষ্ঠানিকভাবে ভিন্নমত বা ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সংবিধান অনুযায়ী কোনো অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের পর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পাস না হলে তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়। ফলে যেসব অধ্যাদেশ কমিটি অনুমোদন দেয়নি, সেগুলোর কার্যকারিতা দ্রুতই শেষ হতে যাচ্ছে। এখন সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে এই সুপারিশগুলোর ভিত্তিতে বিলগুলো পাসের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


