আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রযুক্তির কল্যাণে সহজ হয়ে গেছে মানুষের জীবনযাপন। অনলাইনে কেনাবেচা থেকে শুরু করে হোম ডেলিভারির মতো নতুন সুবিধা এনেছে প্রযুক্তি। এরমাধ্যমে দূর হয়েছে কাউন্টারে সিরিয়াল দিয়ে টাকা পরিশোধের মতো বাড়তি ঝামেলাও। যুক্ত হয়েছে স্ক্যান কোডসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের নানা সুবিধা। তবে এ প্রযুক্তিও অনেকের জন্য কখনও কখনও কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিউআর কোড স্ক্যান করলেই উধাও হয়ে যাচ্ছে টাকা।

কিউআর কোড স্ক্যান

Advertisement

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজারে এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নামিদামী গহনার মডেলের পাশেই দেওয়া হয়েছে কিউআর কোড। আর তাতেই নাকি রয়েছে মূল্যের ছাড়ের বিস্তারিত। আবার কোথাও দেওয়া হয়েছে নামিদামী গায়কের গানের খবর। আর সাথে দেওয়া হয়েছে কিউআর কোড। তা থেকেই মিলবে অনুষ্ঠানের টিকিট। এভাবে করে অফারের কথা বলা হলেও এর আড়ালে অন্য খবর বেরিয়ে এসেছে। স্ক্যানের মাধ্যমে অ্যাকাউন্ট থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা। আবার কখনো হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে ব্যক্তিগত তথ্য। ঢুকে পড়ছেন সাইবার প্রতারকেরা।

পুলিশ জানিয়েছে, বিজ্ঞাপনের এমন ধরন নিয়ে চিন্তিত তারা। বিষয়টি নিয়ে তারা অভিযোগও পেয়েছেন। বিভিন্ন এলাকায় এমন ঘটনা ঘটছে। ব্যারাকপুর পুলিশ কমিশনারেটে এ ধরনের অভিযোগ সবচেয়ে বেশি পড়েছে। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বিধাননগর।

অভিযোগকারীদের দাবি, রাস্তার পাশে লাগানো বিজ্ঞাপনী হোর্ডিং দেখে মোবাইলে কিউআর স্ক্যান করেছিলেন তারা। এরপর তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কারো আড়াই লাখ আবার কারো খোয়া গেছে পাঁচ লাখ টাকার বেশি। এখানেই শেষ নয়, এভাবে স্ক্যান করে অনেকে পড়েছেন ঋণের খপ্পরে। নিজের অজান্তেই চালু হয়ে গিয়েছে ঋণ। কিস্তির জন্য ব্যাংক থেকে চিঠি পেয়ে বিষয়টি আচ করতে পেরেছেন তারা।

তদন্তে জানা যায়, বাড়ির বিজ্ঞাপর দেখে কিউআর কোড স্ক্যান করেছিলেন এক ব্যক্তি। আর তাতেই তার নামে বাড়ি কেনার জন্য ঋণের আবেদন জমা পড়েছে।

এক কলেজছাত্রী জানান, প্রসাধনী সামগ্রীর বিজ্ঞাপন দেখে তিনি কিউআর কোড স্ক্যান করছিলেন তিনি। এরপর তার ফোন অকেজো হয়ে যায়। তরুণী বলেন, ফোনে কোনো কাজ করা যাচ্ছিল না। মনে হচ্ছিল যে আমার ফোন অন্যকেউ পরিচালনা করছে। এরপর আমার সোশ্যাল মিডিয়ার দুটি অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়ে যায়।

ডায়মন্ড হারবার রোডের এক বাসিন্দার অভিযোগ, হঠাৎ করে আমার অ্যকাউন্ট থেকে পাঁচ দফায় আড়াই লাখ টাকা কেটে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি আমি পুলিশে জানায়। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো কিউআর কোড স্ক্যান করেছি কিনা জানতে চাওয়া হয়। কিউআর কোড থেকেই এমনটা ঘটেছে বলেও জানিয়েছে তারা।

কলকাতা পুলিশ জানিয়েছে, প্রতারণা থেকে জনগণকে সতর্ক করতে প্রচারের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

পুলিশের সাইবার শাখার এক কর্মকর্তা জানান, বিজ্ঞাপন সংস্থাগুলোকে ডেকে কথা বলা হচ্ছে। বড় বড় বিজ্ঞাপন এজেন্সিগুলোর তালিকা করা হচ্ছে। তাদের সঙ্গে বিজ্ঞাপনের জন্য গত কয়েক মাসে কারা যোগাযোগ করেছে তা খতিয়ে দেখা হবে। প্রতারণার এ ধরন একেবারে অভিনব।

গোপন তথ্যের প্রকাশ্য রমরমা ব্যবসা

সাইবার গবেষক বিতনু দত্ত বলেন, কিউআর কোড স্ক্যান মানেই সব বেহাত বা প্রতারিত হলাম এমন নয়। তবে এক্ষেত্রে কিউআর কোডের মাধ্যমে একটি লিংক দেওয়া হয়। সেখানে সন্দেহজনক কিছু মনে হলে আর আগানো উচিত নয়।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Tarek Hasan is a professional journalist and currently works as a sub-editor at Zoom Bangla News. With six years of experience in journalism, he is an experienced writer with a strong focus on accuracy, clarity, and editorial quality. His work contributes to delivering reliable and engaging news content to digital audiences.