ষড়ঋতুর বাংলাদেশে হেমন্তকালের স্নিগ্ধতা আর প্রাচুর্যের শেষ হতে না হতেই শুরু হয় শীতকাল। পৌষ-মাঘের হাড় কাপানো শীতে জীর্ণশীর্ণ হয়ে পড়ে জনজীবন। সেই সাথে বাড়ে কোমর, ঘাড় আর হাঁটুর ব্যথা। ব্যাপারটা কি কাকতালীয় নাকি সত্যিই ঠান্ডার সঙ্গে হাড়–ঘাড়ের ব্যথার কোন সম্পর্ক আছে?

শীতে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার ব্যাপারে বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। কারও মতে, ঠান্ডায় রক্তনালী সংকুচিত হয়ে যায়। ফলে জয়েন্ট বা পেশিতে রক্ত চলাচল কিছুটা কমে। রক্ত চলাচল কম মানেই অক্সিজেন ও পুষ্টি কম পৌঁছানো—এ থেকেই শক্ত ভাব, ব্যথা বা জড়তা তৈরি হয়।
আরেকটি ধারণা হলো, শীতকালে পৃথিবীর অভ্যন্তরীন আবহাওয়ার চাপ বা ব্যারোমেট্রিক প্রেশারে পরিবর্তন আসে, যা হাড়ের জোড়ে অস্বস্তি তৈরি করে। পাশাপাশি এই ঋতুতে আমাদের স্নায়ু স্বাভাবিকের চাইতে বেশি সংবেদনশীল হয়ে যায়, ফলে সামান্য ব্যথাও তীব্র যন্ত্রণা দেয়।
এছাড়াও শীতে আমরা কম নড়াচড়া করি। হাঁটাচলা, ব্যায়াম কমে গেলে জয়েন্ট শক্ত হয়ে যায়। বিশেষ করে বয়স্কদের ক্ষেত্রে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা বা কম হাঁটার ফলে ব্যথা বেড়ে যায়।
কিছু ঘরোয়া সমাধানেই শীতে হাড়ের জোড়ার ব্যথা থেতে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
ঘরের বাইরে যাওয়ার আগে পর্যাপ্ত গরম কাপড় পরতে হবে। ঘরের ভেতরেও ঠান্ডা অনুভব করলে গরম কাপড় পড়তে হবে। পাতলা কাপড়ের বদলে কয়েক স্তরে পোশাক পরুন। হাঁটু, কোমর, কনুই ঢেকে রাখার চেষ্টা করুন। বয়স্কদের জন্য উলের মোজা ও শাল খুব উপকারী।
পানি পানের পরিমাণ শীতের দিনে অনেকটাই কমে যায়। এর কারণে শরীর পর্যাপ্ত পানি না পেলে পেশি ও হাড়ের জোড়ের ব্যথা দেখা দিতে পারে। সবচেয়ে সহজ আর কার্যকর উপায় হচ্ছে গরম সেঁক। হট ওয়াটার ব্যাগ বা গরম তোয়ালে দিয়ে ব্যথার জায়গায় দিনে ২–৩ বার সেঁক দিন। এতে রক্ত চলাচল বাড়ে, পেশি ঢিলে হয় এবং ব্যথা কমে।
রোদ পোহাতে ভুলবেন না। শরীরে ভিটামিন ডিয়ের অভাব থাকলে ব্যথার তীব্রতা বেড়ে যেতে পারে। কুয়াশার কারণে সূর্যের দেখা নাও মিলতে পারে।
সেক্ষেত্রে ভিটামিন ডি’য়ের সরবরাহ নিশ্চিত করতে ‘সাপ্লিমেন্ট’ কিংবা ভোজ্য উৎসের দিকে মনযোগ বাড়াতে হবে। আদা, হলুদ, রসুন—এই তিনটি প্রাকৃতিক প্রদাহনাশক। হালকা গরম দুধে হলুদ, আদা চা বা গরম স্যুপ শীতে হাড়ের জন্য বেশ উপকারী।
হাড়ের জোড়ের ব্যথা তীব্রতর হলে তা সামলাতে নিয়মিত হালকা শরীরচর্চা করুন। মনে রাখতে হবে, যে জোড়ে ব্যথা হচ্ছে তার উপর অতিরিক্ত চাপ দেওয়া যাবে না। কম্বলের নিচে ঘাপটি মেরে দিন পার না করে স্বাভাবিক নড়াচড়ার মধ্যে থাকতে পারলেও ব্যথা নিয়ন্ত্রণে অনেকটা উপকার পাবেন।
ঘরোয়া এই পদ্ধতিগুলো অনুসরণ করার পরও ব্যথা না কমলে ‘অর্থোপেডিস্ট’ কিংবা ‘ফিজিকাল থেরাপিস্টয়ের পরামর্শ নিতে হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


