ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণের দিনটি ঘিরে দেশের মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ভোট দেওয়ার উদ্দেশ্যে ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে ট্রেন স্টেশন, বাস টার্মিনাল এবং লঞ্চ ঘাটে। যদিও পথে পথে সীমাহীন ভোগান্তি, অতিরিক্ত ভাড়া এবং টিকিটের জন্য লম্বা অপেক্ষা ছিল, তবুও ভোটারদের চোখ-মুখে উচ্ছ্বাস স্পষ্ট।

গাবতলী, সায়েদাবাদ ও মহাখালী বাস টার্মিনালে সকাল থেকেই মানুষের ঢল নেমেছিল। অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে দ্বিগুণ বা তিনগুণ বেশি ভাড়া দিতে হচ্ছে। তবে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে এই কষ্টকে তারা অগ্রাহ্য করছেন। সায়েদাবাদে এক কর্মকর্তা তারিফুল হক জানান, বাসের টিকিট পেতে পাঁচ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে, ৬০০ টাকার ভাড়া নিতে চাইছে ১২০০ টাকা। তবু ভোট দেওয়ার সুযোগকে তিনি গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে একই চিত্র; পটুয়াখালীগামী যাত্রী মরিয়ম বেগম জানান, ভিড় এতটাই তীব্র ছিল যে বাচ্চার হাত ধরে লঞ্চে ওঠা কঠিন হয়ে পড়েছিল। তবুও ভোট দিতে বাড়ি যাচ্ছেন, যা তার কাছে উৎসবের মতো অনুভূত হচ্ছে।
ঢাকার বিভিন্ন টার্মিনাল ও রেল স্টেশনে সকাল থেকেই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ট্রেন ও বাসের যথেষ্ট সংখ্যা থাকা সত্ত্বেও মানুষ দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করছেন। অনলাইনে টিকিট থাকলেও অনেকের হাতে সেটি পৌঁছায়নি। প্ল্যাটফর্মে প্রবেশের আগে ব্যাগ স্ক্যানিং, টিকিট ও ডিজিটাল যাচাইয়ের মাধ্যমে যাত্রীরা নিরাপদে ঢুকছেন।
রেলস্টেশনে সপরিবারে আসা মো. খালেক বলেন, স্বাস্থ্যঝুঁকি এবং ভিড় সত্ত্বেও তিনি ভোট দিতে আগ্রহী। “শেষ বয়সে এসে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পাওয়া বড় পাওয়া,” তিনি যোগ করেন।
একইভাবে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক সাজেদুল ইসলাম জানান, বুধবার ঢাকা থেকে ৪৩টি আন্তঃনগর এক্সপ্রেস এবং ২৬টি মেইল ও লোকাল কমিউটার ট্রেন চলাচল করছে। চলতি ছুটির কারণে গত তিনদিন ধরে যাত্রীসংখ্যা কয়েকগুণ বেড়ে গেছে।
ভিড়, দীর্ঘ লাইন এবং সীমাহীন ভোগান্তি থাকা সত্ত্বেও ভোটারদের মধ্যে ছিল উৎসবের আমেজ, আনন্দ এবং নিজের অধিকার প্রয়োগের উচ্ছ্বাস, যা প্রমাণ করে, দেশের মানুষ ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে সক্রিয় ও দায়িত্বশীল অংশগ্রহণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


