শীত এলেই চোখে পড়ে কুয়াশাভেজা সকাল, নরম রোদ, গরম চা–কফি আর আরামদায়ক খাবারের আকর্ষণ। তবে এই মনোরম ঋতুই অনেকের জন্য হয়ে ওঠে স্বাস্থ্যঝুঁকির কারণ—বিশেষ করে যাদের হৃদরোগের সমস্যা আছে। শীতকালে যেমন সর্দি-কাশি ও জ্বরের প্রকোপ বাড়ে, তেমনি হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের আশঙ্কাও বেড়ে যায়। তবে আশার কথা হলো, সঠিক খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনের মাধ্যমে শীতেও হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখা সম্ভব।

কেন শীতকালে হৃদযন্ত্র বেশি চাপে পড়ে?
ঠান্ডা বাড়লে শরীর নিজেকে উষ্ণ রাখার জন্য স্বাভাবিকভাবেই কিছু পরিবর্তন ঘটায়। এ সময় রক্তনালিগুলো সংকুচিত হয়ে যায়, যার ফলে রক্তচাপ বৃদ্ধি পায়। সংকুচিত নালির ভেতর দিয়ে রক্ত চলাচল বজায় রাখতে হৃদপিণ্ডকে বাড়তি পরিশ্রম করতে হয়।
একই সঙ্গে ঠান্ডা আবহাওয়ায় রক্ত কিছুটা ঘন হয়ে যায়, কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়তে পারে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকিও তৈরি হয়। এসব কারণ মিলেই শীতকালে হৃদরোগের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
এ কারণে শীতের দিনে খাবার নির্বাচন ও খাদ্যাভ্যাসে বিশেষ সতর্কতা জরুরি।
১. সুষম ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন
শীতে শরীর সুস্থ রাখতে প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় রাখুন পর্যাপ্ত শাকসবজি, ফল, গোটা শস্য, মানসম্মত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর চর্বি। সুষম খাবার হৃদযন্ত্রকে শক্তিশালী করার পাশাপাশি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতাও বাড়ায়।
২. উপকারী চর্বিকে দিন অগ্রাধিকার
সব চর্বি ক্ষতিকর নয়। কিছু চর্বি বরং হৃদযন্ত্রের জন্য উপকারী। রান্নায় সরিষার তেলের সঙ্গে সূর্যমুখী বা চিনাবাদামের তেল ব্যবহার করলে মনোআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট পাওয়া যায়, যা ক্ষতিকর কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে।
এ ছাড়া স্যামন ও সার্ডিনের মতো চর্বিযুক্ত মাছের ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রের প্রদাহ কমায়, হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে এবং রক্ত জমাট বাঁধার ঝুঁকি কমায়। যারা নিরামিষভোজী, তারা আখরোট, চিয়া বীজ ও তিসি বীজ থেকে এই উপকার পেতে পারেন।
৩. খাদ্যতালিকায় রাখুন গোটা শস্য
সাদা চাল বা পরিশোধিত ময়দার পরিবর্তে বাদামি চাল, ওটস, বার্লি, আস্ত গম বা কুইনোয়ার মতো গোটা শস্য বেছে নিন। এসব খাবারে থাকা ফাইবার কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করে, রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে ভূমিকা রাখে। পাশাপাশি এতে রয়েছে বি ভিটামিন, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান।
৪. প্রতিদিন অল্প পরিমাণ বাদাম খান
বাদামকে বলা যায় হৃদযন্ত্রের বন্ধু। কাঠবাদাম, আখরোট ও চিনাবাদামে থাকা স্বাস্থ্যকর চর্বি, প্রোটিন ও ভিটামিন ই হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষা দেয়। এতে থাকা আর্জিনিন রক্তনালিকে শিথিল করে রক্ত চলাচল উন্নত করে। প্রতিদিন এক মুঠো বাদামই যথেষ্ট।
৫. ফল ও শাকসবজিকে দিন প্রধান স্থান
রঙিন ফল ও শাকসবজি হৃদযন্ত্রকে সুস্থ রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। টমেটো ও লাল মরিচের লাইকোপিন, বেরি ও আঙুরের অ্যান্থোসায়ানিনসহ বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রক্তনালিকে সুরক্ষা দেয় ও প্রদাহ কমায়। চেষ্টা করুন প্রতিটি খাবারে প্লেটের অন্তত অর্ধেক অংশ শাকসবজি দিয়ে ভরতে এবং দিনে দুই থেকে তিনবার ফল খেতে।
সঠিক খাবার বাছাই ও সামান্য সচেতনতাই পারে শীতকালের ঝুঁকি থেকে হৃদযন্ত্রকে সুরক্ষিত রাখতে। তাই এই শীতে শুধু উষ্ণতাই নয়, সুস্থতার দিকেও সমান গুরুত্ব দিন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


