আধুনিক জীবনের এই যুগে দিনের বড় একটি সময় আমরা স্মার্টফোনে ব্যয় করছি। প্রয়োজন-অপ্রয়োজন নির্বিশেষে ফোনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কেটে যাচ্ছে, যা অনেক সময় আমরা নিজেরাও বুঝতে পারি না। কখনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা, কখনো রিলস বা ছোট ভিডিও দেখা, কখনো পডকাস্ট শোনা কিংবা প্রিয়জনের সঙ্গে কথা বলা—সব মিলিয়ে স্মার্টফোন এখন আমাদের জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ।

ফোনের এই ব্যবহার সাধারণ বিনোদন মনে হলেও বিজ্ঞান বলছে, এর পেছনে রয়েছে গভীর শারীরিক ও মানসিক প্রভাব। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম শুধু চোখের ক্ষতি করে না, বরং মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং শরীরের স্বাভাবিক রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকেও দুর্বল করতে পারে।
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ বা অন্যান্য স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো শরীরের মেলাটোনিন নামক হরমোন উৎপাদনে বাধা সৃষ্টি করে। এই হরমোনই মূলত ঘুমের সংকেত দেয়। ফলে নিয়মিত স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে এবং মস্তিষ্কের স্মৃতি সংরক্ষণ ও শেখার ক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে যেতে পারে।
বিশেষ করে রাতে দীর্ঘ সময় ফোন ব্যবহারের ফলে শরীরে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন বাড়তে পারে, যা মানসিক চাপ, উদ্বেগ এবং মেজাজ খিটখিটে হওয়ার মতো সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
বিভিন্ন গবেষণায় আরও দেখা গেছে, অতিরিক্ত ফোন ব্যবহারের কারণে শরীরের অন্ত্রে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়ার ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে, যা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলে। কারণ শরীরের একটি বড় অংশ হ্যাপি হরমোন এই অংশেই তৈরি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব এবং অতিরিক্ত স্ক্রিন নির্ভরতা মস্তিষ্কে দীর্ঘমেয়াদি চাপ সৃষ্টি করে, যা ধীরে ধীরে বয়সজনিত ক্ষতির মতো প্রভাব ফেলতে পারে। একে অনেক গবেষক ডিজিটাল আসক্তি হিসেবেও উল্লেখ করেছেন।
এছাড়া অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহার মস্তিষ্ককে সবসময় অতিরিক্ত উদ্দীপনার দিকে অভ্যস্ত করে তোলে, যা এক ধরনের আসক্তির মতো আচরণ সৃষ্টি করে। ফলে ধীরে ধীরে মনোযোগ কমে যায় এবং বাস্তব জীবনের প্রতি আগ্রহও হ্রাস পায়।
তবে ভালো খবর হলো, এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব। বিজ্ঞানীরা জীবনযাত্রায় কিছু পরিবর্তনের পরামর্শ দিয়েছেন। যেমন—ঘুমানোর অন্তত এক ঘণ্টা আগে সব ধরনের স্ক্রিন ব্যবহার বন্ধ করা, নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমানো, এবং বিকেলের পর ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় এড়িয়ে চলা।
নিয়মিত এই অভ্যাসগুলো গড়ে তুলতে পারলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি আবার স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসতে পারে এবং ধীরে ধীরে স্ক্রিন-সম্পর্কিত ক্ষতিকর প্রভাবও কমে যেতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


