পবিত্র রমজান মাসের শেষ দশক মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ও ফজিলতপূর্ণ রাত হলো শবেকদর বা লাইলাতুল কদর। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এই রাতে ইবাদত করা হাজার মাসের ইবাদতের চেয়েও উত্তম। তাই বিশ্বজুড়ে অসংখ্য মুসলমান রমজানের শেষ দশকে এই মহিমান্বিত রাতের সন্ধানে নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, জিকির ও দোয়ায় নিজেদের ব্যস্ত রাখেন।

পবিত্র Qur’an-এ উল্লেখ রয়েছে—লাইলাতুল কদর হাজার মাসের চেয়েও উত্তম। অর্থাৎ প্রায় ৮৩ বছর চার মাসের ইবাদতের চেয়েও এই এক রাতের ইবাদতের মর্যাদা বেশি। তবে ইসলামী গবেষকদের মতে, এই সংখ্যাটি মূলত রাতটির গুরুত্ব বোঝানোর জন্য উল্লেখ করা হয়েছে। কোরআন বা সহিহ হাদিসে এক মিনিট বা এক সেকেন্ড ইবাদতের বিনিময়ে কত বছরের সওয়াব পাওয়া যায়—এমন নির্দিষ্ট কোনো গাণিতিক হিসাব দেওয়া হয়নি।
সময়ের দৃষ্টিতে লাইলাতুল কদরের মাহাত্ম্য
যদি লাইলাতুল কদরের ফজিলতকে সাধারণ সময়ের হিসেবে তুলনা করা হয়, তবে বোঝা যায় যে এই রাতে অল্প সময়ের ইবাদতও মানুষের দীর্ঘ জীবনের আমলকে সমৃদ্ধ করতে পারে।
ধারণা করা হয়, এই রাতের মাত্র এক সেকেন্ডের ইবাদত সাধারণ সময়ের প্রায় ২৩ ঘণ্টার চেয়েও বেশি সওয়াব বয়ে আনতে পারে। এক মিনিটের জিকির বা প্রার্থনা প্রায় ৫৮ দিনের ইবাদতের সমতুল্য হতে পারে। আবার এক ঘণ্টা মনোযোগ দিয়ে ইবাদত করলে তা প্রায় ৯ দশকের সমপরিমাণ সওয়াবের সমান বলে ব্যাখ্যা করা হয়। আর পুরো রাত ইবাদতে কাটালে তা ৮৩ বছরেরও বেশি সময়ের নিরবচ্ছিন্ন ইবাদতের চেয়েও শ্রেষ্ঠ বলে ধরা হয়।
হাদিসে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি ঈমানের সঙ্গে এবং সওয়াবের আশায় শবেকদরের রাতে ইবাদত করে, তার পূর্বের গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়।’ (বুখারি ও মুসলিম)
হাদিস অনুযায়ী, শবেকদরের নির্দিষ্ট তারিখ নির্ধারিত নয়। তবে রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রাতগুলো—২১, ২৩, ২৫, ২৭ ও ২৯ তারিখে এই রাত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। এ কারণে মুসলমানরা শেষ দশকে ইবাদত-বন্দেগিতে বিশেষ মনোযোগ দেন।
এই সময় শবেকদরের সন্ধানে ইতেকাফ করা সুন্নত। তাই অনেক মুসলমান মসজিদে অবস্থান করে পার্থিব ব্যস্ততা থেকে দূরে থেকে দিন-রাত ইবাদত, কোরআন তিলাওয়াত ও দোয়ায় সময় কাটানোর চেষ্টা করেন।
শবেকদরের আরেকটি বড় তাৎপর্য হলো—এই রাতেই মহানবী Muhammad (সা.)-এর ওপর প্রথমবারের মতো পবিত্র কোরআন নাজিল হওয়া শুরু হয়েছিল।
এই রাতে মুসলমানদের করণীয় হলো আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা, নিজেদের ভুলত্রুটির জন্য তাওবা করা, নফল নামাজ, তারাবি ও তাহাজ্জুদ আদায় করা, বেশি বেশি জিকির-আজকার ও কোরআন তিলাওয়াত করা এবং নতুনভাবে জীবন গড়ে তোলার দৃঢ় সংকল্প নেওয়া। একই সঙ্গে এই রাতগুলোতে বেশি বেশি দোয়া করাও বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই ইবাদতের জন্য পর্যাপ্ত সময় বের করতে পারেন না। কিন্তু শবেকদর এমন একটি বিশেষ সুযোগ, যখন অল্প সময়ের ইবাদতও আল্লাহর কাছে অসীম মর্যাদা লাভ করতে পারে।
তাই এই রাতের প্রতিটি মুহূর্তকে কাজে লাগানো একজন মুমিনের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


