রমজান মানে শুধুমাত্র আত্মিক তৃপ্তি নয়, এটি আত্মশুদ্ধির মাস। তবে সদ্য মা হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে রোজা রাখার সময় বিশেষ সতর্কতা জরুরি, কারণ এই সময়ে শরীর কেবল নিজের জন্য নয়, নবজাতক বা গর্ভস্থ শিশুর জন্যও পুষ্টি সরবরাহ করে। তাই রোজার আগে ও চলাকালীন সময় কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মেনে চলা প্রয়োজন।

১. চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন
রোজা শুরু করার আগে নিজের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো আবশ্যক। চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। গর্ভাবস্থা বা দুধ খাওয়ানো সংক্রান্ত কোনো ঝুঁকি থাকলে রোজা না রাখাই নিরাপদ হতে পারে।
২. সুষম ও পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস
সেহরিতে প্রোটিন, জটিল কার্বোহাইড্রেট ও ফল খেলে দিনের বেলা শক্তি বজায় থাকে। ইফতারে প্রচুর পানি, দই, ফল ও সহজপাচ্য খাবার গ্রহণ করলে শরীর দ্রুত পুষ্টি পায় এবং হজমও সহজ হয়।
৩. পর্যাপ্ত পানি ও হাইড্রেশন
রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ পানি না পাওয়ার ফলে ডিহাইড্রেশন হতে পারে। সেহরি ও ইফতারের মধ্যে পর্যাপ্ত পানি পান করুন। চা, কফি বা মিষ্টি পানীয়ের পরিবর্তে সাদা পানি বেশি নিরাপদ।
৪. যথেষ্ট বিশ্রাম নিন
শক্তি ধরে রাখার জন্য অতিরিক্ত শারীরিক শ্রম বা চাপ এড়িয়ে চলুন। ক্লান্তি বা ঘামের মাত্রা বেশি হলে বিরতি নিন এবং শরীরের সংকেত মেনে চলুন।
৫. দুধ খাওয়ানোর সময় যত্ন
দুধ খাওয়ান মা হলে রোজার সময় পানীয় ও পুষ্টি ঠিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ইফতার ও সেহরির পর শিশুকে প্রয়োজন অনুযায়ী বুকের দুধ দিন। যদি শিশুর স্বাস্থ্য বা দুধের পরিমাণে সমস্যা দেখা দেয়, রোজা ভাঙার কথা বিবেচনা করুন।
৬. শরীরের সংকেত শুনুন
মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা বমি বমি ভাব দেখা দিলে রোজা ভাঙতে দ্বিধা করবেন না। শরীরের সংকেত অনুযায়ী চলাই সবচেয়ে নিরাপদ।
রমজান মাসে নৈতিক ও আত্মিক উন্নতি লক্ষ্য করা উচিত, কিন্তু সদ্য মা হওয়ার সময় নিজের ও শিশুর স্বাস্থ্যকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ, সুষম খাদ্যাভ্যাস ও পর্যাপ্ত বিশ্রামের মাধ্যমে নতুন মায়েরা রোজা রাখার সময় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে সক্ষম হবেন।
তথ্যসূত্র: জনস হপকিন্স আরামকো হেলথকেয়ার
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


