রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালিয়ে গেছেন এক স্বামী। নিহত গৃহবধূর পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘদিনের নির্যাতনের কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে। ঘটনার পর অভিযুক্ত স্বামী হাফিজ মোল্লা আত্মগোপনে চলে গেছেন।

নিহত সামিয়া আক্তার (২৭) লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার ভাদুর ইউনিয়নের জয়নগর এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা দেলোয়ার হোসেন। অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লাও একই এলাকার বাসিন্দা।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ জুন সামিয়াকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন তার স্বামী। পরে তাকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে টানা নয় দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার গভীর রাতে তার মৃত্যু হয়।
স্বজনদের অভিযোগ, মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই হাসপাতাল থেকে কৌশলে পালিয়ে যান হাফিজ মোল্লা। পরে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মরদেহ মর্গে সংরক্ষণ করে। খবর পেয়ে পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে এসে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ গ্রহণ করেন। শুক্রবার রাতে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১২ বছর আগে সামিয়াকে বাড়ি থেকে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেন হাফিজ। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে অশান্তি ছিল। এছাড়া হাফিজের আরও দুটি বিয়ে রয়েছে বলেও জানা গেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দার অভিযোগ, হাফিজ মোল্লার বিরুদ্ধে মাদক ও অস্ত্র আইনে একাধিক মামলা রয়েছে এবং তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
নিহতের ছোট ভাই হাসান জানান, তার বোনের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল। তিনি দাবি করেন, মারধরের পাশাপাশি তাকে বিষপ্রয়োগও করা হয়ে থাকতে পারে। এ বিষয়ে প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে পরিবার।
সামিয়ার বাবা দেলোয়ার হোসেন বলেন, বিয়ের পর থেকেই তার মেয়ের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হতো। এ ঘটনায় তিনি আগে থেকেই থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছিলেন। তিনি মেয়ের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও অভিযুক্তের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত হাফিজ মোল্লার কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
রামগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফিরোজ উদ্দিন চৌধুরী জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে রাজধানীর শেরেবাংলানগর থানা থেকেও বিষয়টি সম্পর্কে একটি চিঠি এসেছে। ময়নাতদন্ত ও সুরতহাল প্রতিবেদনের কপি পাওয়ার পর তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



