জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভবিষ্যতের বাংলাদেশ হবে সম্মিলিত প্রয়াসের ফসল। বিভাজন সৃষ্টির কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না। প্রত্যেক ধর্মের মানুষ নিজ নিজ বিশ্বাস ও সংস্কৃতি অনুযায়ী ধর্মীয় চর্চা করবেন, সেখানে অন্য কারও হস্তক্ষেপ করার সুযোগ থাকবে না।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের সম্পদ ও নিরাপত্তার দিকে কেউ কুদৃষ্টি দিতে পারবে না। যদি কেউ এমন দুঃসাহস দেখায়, রাষ্ট্র কঠোর হাতে তা প্রতিহত করবে। আমাদের লক্ষ্য একটি সমতার বাংলাদেশ গড়ে তোলা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় ফরিদপুরের বোয়ালমারী পৌর সদরের স্টেডিয়াম মাঠে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলীয় জোট আয়োজিত নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি ফরিদপুর-১ আসনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. ইলিয়াস মোল্লাকে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।
সুষ্ঠু নির্বাচন প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, কোনো অনিয়ম বা জবরদস্তি মেনে নেওয়া হবে না। জনগণের ভোটে যিনি নির্বাচিত হবেন, তাকে আমরা সর্বান্তকরণে অভিনন্দন জানাবো। তবে জনগণের রায়ের বাইরে কোনো কিছু গ্রহণযোগ্য নয়।
তিনি আরও বলেন, “১২ তারিখের ভোট শুধু একটি নির্বাচন নয়, এটি হবে এক প্রকার গণভোট। এখানে ‘হ্যাঁ’ মানে স্বাধীনতা, আর ‘না’ মানে পরাধীনতা। ইনশাআল্লাহ প্রথম ভোট হবে ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে। দেশবাসী ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করলে বাংলাদেশ নতুন পথের সন্ধান পাবে। সেই ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমেই নতুন বাংলাদেশের জন্ম হবে, আর তা পরিচালনার জন্য প্রয়োজন ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা।”
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের জয় চান না, চান দেশের ১৮ কোটি মানুষের কল্যাণ। তিনি দলীয়, পরিবারতান্ত্রিক বা গোষ্ঠীকেন্দ্রিক সরকার চান না; চান জনগণের দ্বারা পরিচালিত সরকার।
তিনি উল্লেখ করেন, ৫ আগস্টের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে যেমন মসজিদ পাহারা দেওয়া হয়েছে, তেমনি মন্দির, মঠ ও চার্চও পাহারায় ছিল জামায়াতে ইসলামী। কারণ প্রতিটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ধর্মাবলম্বীদের কাছে পবিত্র ও গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে কোনো বাড়াবাড়ি সহ্য করা হবে না।
জনসভায় তিনি বলেন, সারা দেশে মানুষ জেগে উঠেছে। জামায়াতে ইসলামী সন্ত্রাস, ফ্যাসিবাদ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। যারা মায়ের ইজ্জত হরণ করে, তাদের সঙ্গে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। এবার মা-বোনেরাও সচেতন হয়ে উঠেছেন এবং নিজেদের মর্যাদা রক্ষার আন্দোলনে যুক্ত হয়েছেন।
জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির আবু হারিচ মোল্লার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ জনসভা সঞ্চালনা করেন বোয়ালমারী পৌর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি সৈয়দ সাজ্জাদ আলী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


