সন্তান হলো মা–বাবার কাছে আল্লাহ তাআলার এক মহান আমানত। তাই সন্তানের সুন্দর চরিত্র ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা মা–বাবার অন্যতম দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনে যেমন আন্তরিক প্রচেষ্টা জরুরি, তেমনি আল্লাহর দরবারে নিয়মিত দোয়া করাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ মা–বাবার দোয়া আল্লাহ তাআলা বিশেষভাবে কবুল করে থাকেন।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন,
“তিন ব্যক্তির দোয়া নিঃসন্দেহে কবুল হয়—মা–বাবার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া এবং মজলুমের দোয়া।”
(আবু দাউদ: ১৫৩৬, তিরমিজি: ১৯০৫)
সন্তানকে সৎ ও আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে মা–বাবার দোয়ার ভূমিকা অত্যন্ত গভীর। এ কারণেই নবী-রাসুলরা তাঁদের সন্তানদের জন্য আল্লাহর কাছে বিশেষভাবে দোয়া করতেন। পবিত্র কোরআনে হজরত ইবরাহিম (আ.)সহ একাধিক নবীর সন্তান-সংক্রান্ত দোয়ার বর্ণনা এসেছে।
দেশ ও বাসস্থানের নিরাপত্তার জন্য দোয়া
হজরত ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন—
“হে আমার রব! এ নগরকে শান্তিময় করে দিন এবং আমাকে ও আমার সন্তানদের মূর্তিপূজা থেকে দূরে রাখুন।”
(সুরা ইবরাহিম: ৩৫)
সন্তান যেন নামাজ কায়েমকারী হয়
তিনি আরও দোয়া করেন—
“হে আমার রব! আমাকে নামাজ কায়েমকারী বানান এবং আমার বংশধরদের মধ্য থেকেও নামাজ কায়েমকারী সৃষ্টি করুন। হে আমার রব! আমার দোয়া কবুল করুন।”
(সুরা ইবরাহিম: ৪০)
শয়তানের অনিষ্ট থেকে রক্ষার দোয়া
হজরত মারইয়াম (আ.) জন্মগ্রহণের পর তাঁর মা দোয়া করেছিলেন—
“আমি তার নাম রাখলাম মারইয়াম এবং তাকে ও তার বংশধরদের অভিশপ্ত শয়তান থেকে রক্ষার জন্য তোমার আশ্রয়ে দিলাম।”
(সুরা আলে ইমরান: ৩৬)
সন্তানের জন্মের আগেই দোয়া
সন্তান কামনার সময় থেকেই দোয়া করা সুন্নত। হজরত জাকারিয়া (আ.) ইয়াহইয়া (আ.) জন্মের আগেই দোয়া করেছিলেন—
“হে আমার রব! তোমার পক্ষ থেকে আমাকে একটি পবিত্র সন্তান দান করো। নিশ্চয়ই তুমি দোয়া কবুলকারী।”
(সুরা আলে ইমরান: ৩৮)
সন্তান যেন আল্লাহর সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত হয়
তিনি আরও দোয়া করেন—
“হে আমার রব! তাকে তোমার সন্তুষ্টিপ্রাপ্ত বানাও।”
(সুরা মারইয়াম: ৬)
সন্তান যেন হয় সৎ ও মহৎ
ইসমাঈল (আ.) জন্মের পূর্বে ইবরাহিম (আ.) দোয়া করেছিলেন—
“হে আমার রব! আমাকে এমন এক পুত্র দান করুন, যে সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত হবে।”
(সুরা আস-সাফফাত: ১০০)
সন্তান যেন হয় চক্ষুশীতলকারী
নেককার বান্দাদের একটি বিশেষ গুণ সম্পর্কে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“হে আমাদের রব! আমাদের এমন স্ত্রী ও সন্তান দান করুন, যারা হবে আমাদের চোখের শীতলতা এবং আমাদের মুত্তাকিদের জন্য আদর্শ বানান।”
(সুরা ফুরকান: ৭৪)
সন্তান ও বংশধরদের সংশোধনের দোয়া
৪০ বছর বয়সে উপনীত হলে নিজের ও সন্তানদের জন্য বিশেষভাবে দোয়া করার কথা কোরআনে এসেছে—
“হে আমার রব! আমাকে তাওফিক দিন যেন আমি তোমার দেওয়া নিয়ামতের শোকর আদায় করতে পারি, তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করতে পারি এবং আমার বংশধরদের তুমি সংশোধন করে দাও।”
(সুরা আহকাফ: ১৫)
শেষ কথা, সন্তান যেন দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণের উৎস হয়—এটাই প্রত্যেক মা–বাবার কামনা। আল্লাহ তাআলা যেন আমাদের সন্তানদের নেককার, আদর্শবান ও চক্ষুশীতলকারী হিসেবে কবুল করেন। আমিন।
মাওলানা সাখাওয়াত উল্লাহ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


