বসা অবস্থা থেকে উঠে দাঁড়ালেই পেশিতে টান লাগা, কিংবা হঠাৎ করে কোমর, হাঁটু বা পিঠে ব্যথা বেড়ে যাওয়াকে আমরা অনেক সময় শীতের প্রভাব বা বয়সজনিত সমস্যা বলে এড়িয়ে যাই। কিন্তু বাস্তবে এসব শারীরিক সমস্যার পেছনে বড় একটি কারণ হতে পারে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি। সূর্যের আলো ছাড়াও ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণের মাধ্যমে শরীরে এই গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিনের অভাব পূরণ করা সম্ভব। চলুন জেনে নেওয়া যাক—শরীরে ভিটামিন ডি কমে গেলে কী কী লক্ষণ দেখা দিতে পারে।

১. পেশির ব্যথা ও দুর্বলতা
অল্প কাজেই পেশিতে ব্যথা অনুভব হওয়া, দুর্বল লাগা, সিঁড়ি ভাঙতে কষ্ট হওয়া কিংবা হঠাৎ পেশিতে টান ধরা ভিটামিন ডি ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
২. সারাদিন ঝিমুনি ভাব
যথেষ্ট ঘুমের পরও শরীর ক্লান্ত লাগলে সেটির কারণ হতে পারে ভিটামিন ডি-এর অভাব। কারণ এটি শরীরের এনার্জি মেটাবলিজম ও পেশির শক্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
৩. হাড় ও জোড়ার ব্যথা
দীর্ঘদিন ভিটামিন ডি কম থাকলে শরীরে ক্যালসিয়াম শোষণ ব্যাহত হয়, যার ফলে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে। অনেকেই কোমর, হাঁটু বা পিঠের ব্যথাকে বয়স বা কাজের চাপের ফল মনে করলেও এটি ভিটামিন ডি ঘাটতির অন্যতম প্রধান লক্ষণ।
৪. ঘন ঘন অসুস্থ হওয়া
বারবার সর্দি-কাশি, জ্বর বা বিভিন্ন সংক্রমণে ভোগা মানে রোগ প্রতিরোধক্ষমতা দুর্বল হয়ে যাওয়া। ইমিউন সিস্টেমকে সক্রিয় রাখতে ভিটামিন ডি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. চুল পড়া ও ক্ষত সারতে দেরি
স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি চুল পড়া এবং ক্ষত শুকাতে সময় লাগাও ভিটামিন ডি কম থাকার সঙ্গে সম্পর্কিত। এই ভিটামিন ত্বক ও কোষ পুনর্গঠনে সহায়তা করে।
৬. মন খারাপ ও হতাশা
দীর্ঘদিন মন খারাপ থাকা, আগ্রহ কমে যাওয়া বা হতাশার অনুভূতি অনেক সময় ভিটামিন ডি ঘাটতির কারণে হতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি মস্তিষ্কের মুড নিয়ন্ত্রণকারী হরমোনের ওপর প্রভাব ফেলে।
রোদ পোহানোর সঠিক নিয়ম
সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের কোলেস্টেরলের সঙ্গে বিক্রিয়া করে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি করে, যা ক্যালসিয়াম শোষণে সাহায্য করে। সাধারণত সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৩টার মধ্যে সূর্যের আলো সবচেয়ে কার্যকর। সপ্তাহে কয়েক দিন ১০–৩০ মিনিট রোদে থাকাই বেশিরভাগ মানুষের জন্য যথেষ্ট। যাদের ত্বকের রঙ গাঢ়, তাদের ক্ষেত্রে ভিটামিন ডি উৎপাদনে ৩ থেকে ৬ গুণ বেশি সময় লাগতে পারে।
ভিটামিন ডি বাড়াতে যেসব খাবার উপকারী
ভিটামিন ডি সমৃদ্ধ খাবারের মধ্যে রয়েছে—
স্যামন, টুনা ও সার্ডিনের মতো তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম, ফোর্টিফাইড দুধ, দই, কমলার রস, গরুর কলিজা। এছাড়া কড লিভার অয়েল ভিটামিন ডি ও ওমেগা-৩-এর চমৎকার উৎস। সয়া দুধ, বাদাম দুধ ও চালের দুধেও ভিটামিন ডি পাওয়া যায়, বিশেষ করে ফোর্টিফাইড হলে।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির লক্ষণ সবার ক্ষেত্রে একরকম নাও হতে পারে। দীর্ঘদিন এসব উপসর্গ দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা জানা জরুরি। সময়মতো ঘাটতি শনাক্ত হলে সঠিক খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত রোদে থাকা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শে সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের মাধ্যমে সহজেই সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা যায়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


