সরকার জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না এবং সংসদের ভেতরে-বাইরে প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

শনিবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শেরপুর-৩ (শ্রীবরদী-ঝিনাইগাতি) আসনের নির্বাচনী সহিংসতায় আহতদের দেখতে গিয়ে সাংবাদিকদের কাছে এসব কথা বলেন তিনি।
জামায়াত আমির বলেন, গত ৯ এপ্রিল জাতীয় সংসদের শেরপুর ও বগুড়ায় অনুষ্ঠিত নির্বাচনে তারা সুষ্ঠু পরিবেশ প্রত্যাশা করেছিলেন। কিন্তু ওই দুই এলাকাতেই ব্যাপক অনিয়ম, জালিয়াতি ও সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, কিছু ক্ষেত্রে পরিস্থিতি ভয়াবহ সন্ত্রাসে রূপ নিয়েছে, যার অন্যতম উদাহরণ শেরপুর-৩ আসনের ঘটনা।
তিনি আরও জানান, এর আগে ১২ ফেব্রুয়ারি ওই আসনে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও সহিংসতায় মাওলানা রেজাউল করিম নিহত হন এবং আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। পরবর্তীতে নির্বাচন স্থগিত করা হয়। সাম্প্রতিক স্থগিত নির্বাচনের সময়ও সহিংসতায় একজন নিহত ও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশের রাজনীতিতে অতীতেও সহিংসতা ছিল। কিন্তু এত রক্তক্ষয়ের পরও কেন আবার রক্ত দিতে হবে?’ তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনীতিতে সহিংসতা পরিহার করে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহনশীলতার পরিবেশ ফিরে আসবে।
তিনি সংসদের কার্যক্রম নিয়েও সমালোচনা করেন। বলেন, জনগণের করের টাকায় পরিচালিত সংসদে জনকল্যাণমূলক কাজের পরিবর্তে অপ্রাসঙ্গিক বিতর্ক ও ব্যক্তিগত আক্রমণ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি সব রাজনৈতিক দলের প্রতি জনস্বার্থে আইন প্রণয়নে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বজায় রাখার আহ্বান জানান।
জামায়াত আমির আরও বলেন, যারা সহিংসতার মাধ্যমে সংসদে প্রবেশ করে তারা জনগণের কল্যাণে কাজ করতে পারে না। তিনি ভবিষ্যতে সহিংসতামুক্ত নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আদর্শের লড়াই হোক, অস্ত্রের নয়।’
এসময় উপস্থিত ছিলেন কামরুল হাসান মিলন, জেলা জামায়াতের আমির আব্দুল করিমসহ দলের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
এর আগে তিনি হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে গিয়ে আহত নেতাকর্মীদের খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে তাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


