মহাকাশের গভীর অন্ধকার থেকে ভেসে আসা এক বিরল ধূমকেতু হঠাৎ করেই অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠেছে। ধূমকেতুটির নাম থ্রি-আই অ্যাটলাস। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এটি আমাদের সৌরজগতে আগত তৃতীয় আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতু—অর্থাৎ এর উৎপত্তি সৌরজগতের বাইরে অন্য কোনো নক্ষত্রজগতে।

দীর্ঘদিন ধরে একটি মহাকাশ দূরবীক্ষণ মিশনের মাধ্যমে ধূমকেতুটিকে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছিল। গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের সবচেয়ে কাছ দিয়ে অতিক্রম করার প্রায় দুই মাস পর এর আলো হঠাৎ বেড়ে যায়। বিজ্ঞানীদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সূর্যের তাপে ধূমকেতুর ভেতরে জমে থাকা বরফ সরাসরি গ্যাসে রূপ নিতে শুরু করে। এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘সাবলিমেশন’, অর্থাৎ বরফ তরল না হয়ে সরাসরি গ্যাসে পরিণত হওয়া।
ধূমকেতুটি থেকে পানি, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন, মিথানল এবং সায়ানাইডের মতো বিভিন্ন গ্যাস বের হচ্ছে। এসব উপাদানকে জৈব অণু হিসেবে ধরা হয়, যা জীবনের প্রাথমিক উপাদান তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিজ্ঞানীদের ধারণা, ধূমকেতুটির কেন্দ্রের আকার এক কিলোমিটারেরও কম।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো—ধূমকেতুটি সূর্য থেকে পৃথিবীর তুলনায় প্রায় তিন গুণ বেশি দূরে অবস্থান করেও পানি নির্গত করছে। সাধারণত এত দূরত্বে পানি সহজে বাষ্পে রূপ নেয় না। অথচ এই ধূমকেতু প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৪০ কেজি পানি ছড়িয়ে দিচ্ছে। গবেষকদের ভাষায়, এটি যেন মহাশূন্যে পূর্ণ শক্তিতে চালু থাকা একটি পানির পাইপের মতো।
গবেষণায় আরও জানা গেছে, এতে পানির তুলনায় কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বেশি। এ থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এটি সম্ভবত কোনো প্রাচীন তারকার চারপাশে কঠিন ও শীতল পরিবেশে গঠিত হয়েছিল।
বিজ্ঞানীদের মতে, এমন আন্তঃনাক্ষত্রিক ধূমকেতুর পর্যবেক্ষণ আমাদের বুঝতে সাহায্য করে—পানি ও জীবনের উপাদান কীভাবে এক গ্রহ থেকে অন্য গ্রহে, এমনকি এক নক্ষত্রজগত থেকে আরেক নক্ষত্রজগতে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মহাবিশ্বে জীবনের সম্ভাবনা অনুসন্ধানে এ ধরনের আবিষ্কার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


