সূর্যের প্রচণ্ড তাপের প্রভাবে একটি বিশাল গ্রহাণু ধীরে ধীরে ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে মহাকাশে। ভেঙে যাওয়া এসব টুকরো একত্রে ধূলিকণার মেঘ তৈরি করেছে। পৃথিবী যখন তার কক্ষপথে ঘুরতে ঘুরতে এই ধ্বংসাবশেষের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করে, তখন সেগুলো আমাদের চোখে উল্কাবৃষ্টি হিসেবে ধরা পড়ে।

বিজ্ঞানীরা ইতোমধ্যে ২৮২টি উল্কার একটি গুচ্ছ শনাক্ত করেছেন, যেগুলো একটি নির্দিষ্ট উৎস থেকে এসেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গবেষকদের মতে, এগুলো আসলে একটি মৃতপ্রায় গ্রহাণুর অংশ, যাকে ‘রক–কমেট’ বলা হয়। সূর্যের খুব কাছে চলে যাওয়ার কারণে এই বস্তুটি ভেঙে ধুলাবালুতে পরিণত হয়েছে।
নাসার জনসন স্পেস সেন্টারের বিজ্ঞানী প্যাট্রিক শোবার এই আবিষ্কারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি জানান, সূর্যের তাপে একটি গ্রহাণু কীভাবে ধ্বংস হয়, তার একটি স্পষ্ট উদাহরণ এটি। প্রতিনিয়ত অসংখ্য ক্ষুদ্র মহাকাশীয় বস্তু পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে প্রবেশ করে এবং বায়ুর সঙ্গে ঘর্ষণের ফলে জ্বলে উঠে উল্কায় পরিণত হয়। এই কণাগুলো অত্যন্ত দ্রুতগতিতে—প্রতি সেকেন্ডে ১৫ মাইলেরও বেশি বেগে—বায়ুর সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়ে উজ্জ্বল আলোর রেখা তৈরি করে।
সাধারণত বিজ্ঞানীরা উল্কাবৃষ্টি কিংবা ধূমকেতুর লেজ বিশ্লেষণ করে এসব কণার উৎস নির্ধারণ করেন। শোবারের গবেষণায় দেখা গেছে, এই উল্কাগুলোর উৎপত্তি একটি বিরল ধরনের পাথুরে বস্তু থেকে। সাধারণভাবে উল্কাবৃষ্টি ধূমকেতুর ভাঙনের ফল হলেও, এখানে একটি পাথুরে গ্রহাণু সূর্যের তাপে ভেঙে একই ধরনের দৃশ্য তৈরি করেছে।
তিনি আরও জানান, এই উল্কাগুলোর গঠন মাঝারি মাত্রার ভঙ্গুর হলেও ধূমকেতুর তুলনায় কিছুটা বেশি শক্তিশালী। সূর্যের তাপে গ্রহাণুর বাইরের স্তর ফেটে যায় এবং ভেতরের গ্যাস বের হয়ে এসে সেটিকে ভেঙে দেয়। এই গ্রহাণুটি সূর্যের অত্যন্ত কাছাকাছি চলে আসে—পৃথিবীর দূরত্বের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ কম—যার ফলে এর এমন ভাঙন ঘটে।
পৃথিবী যখন এই ছড়িয়ে থাকা ধূলিকণা ও পাথরের মেঘের ভেতর দিয়ে যায়, তখনই তৈরি হয় মনোমুগ্ধকর উল্কাবৃষ্টি। বিজ্ঞানীরা এই নতুন উল্কাবৃষ্টির নাম দিয়েছেন ‘এম২০২৬–এ১’। জানা গেছে, প্রতিবছর ১৬ মার্চ থেকে ৭ এপ্রিল পর্যন্ত আকাশে এই দৃশ্য দেখা যাবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


