ইরানি বন্দরগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত অবরোধের পরিকল্পনায় শামিল হতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে ন্যাটো মিত্ররা। ব্রিটেন ও ফ্রান্সসহ জোটের প্রধান দেশগুলো স্পষ্ট করেছে, তারা এই মুহূর্তে সরাসরি কোনো সংঘাত বা অবরোধে জড়াবে না। মিত্রদের এমন অবস্থানে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প সামরিক জোটটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে সরিয়ে নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। খবর রয়টার্সের।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বিবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, আমরা এই অবরোধ সমর্থন করছি না। চাপ যাই হোক না কেন, আমার সিদ্ধান্ত খুব স্পষ্ট—আমরা এই যুদ্ধে জড়াবো না।
একই সুর শোনা গেছে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর কণ্ঠেও। তিনি সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, সংঘাত শেষ হওয়ার পর হরমুজ প্রণালীতে নৌচলাচল পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে তারা একটি বহুজাতিক মিশন গঠনের পরিকল্পনা করছেন। তবে এটি কোনো আক্রমণাত্মক মিশন হবে না।
ইরানের সঙ্গে ছয় সপ্তাহের সংঘাত নিরসনে শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছেন, সোমবার থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কাছাকাছি আসা যেকোনো ইরানি জাহাজকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ধ্বংস করে দেবে। রোববার ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেন, অবরোধটি শিগগিরই শুরু হবে এবং অন্য দেশও এতে জড়িত থাকবে।
তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী পরে স্পষ্ট করেছে যে, এই অবরোধ শুধুমাত্র ইরানি বন্দরে আসা-যাওয়াকারী জাহাজের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইরান মূলত নিজেদের জাহাজ ছাড়া অন্য সব জাহাজের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি বন্ধ করে রেখেছে।
ন্যাটো মিত্রদের এই অস্বীকৃতি ট্রাম্পের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বেশ কয়েকটি দেশ ইরানের ওপর হামলার জন্য মার্কিন সামরিক বিমানকে তাদের আকাশসীমা ব্যবহারে বাধা দেওয়ার পর ট্রাম্প জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছেন। এমনকি ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টিও এখন হোয়াইট হাউসের বিবেচনায় রয়েছে।
ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সদস্য দেশগুলোকে ট্রাম্পের চাওয়া অনুযায়ী প্রণালী সুরক্ষায় সুনির্দিষ্ট প্রতিশ্রুতির কথা বললেও দেশগুলো শর্ত জুড়ে দিয়েছে। তাদের মতে, স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসান হলেই কেবল তারা কোনো মিশনে যোগ দিতে পারে।
ফ্রান্স ও ব্রিটেনসহ প্রায় ৩০টি দেশ মিলে একটি স্বতন্ত্র বহুজাতিক মিশন গঠনের লক্ষ্যে আগামী বৃহস্পতিবার প্যারিস বা লন্ডনে বৈঠকে বসতে পারে। ফরাসি কূটনৈতিক সূত্রের মতে, এই মিশনে ভারত, গ্রিস, স্পেন, ইতালি ও সুইডেনের মতো দেশগুলো থাকতে পারে। তবে এই মিশনটি কোনো পক্ষ না নিয়ে কেবল ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার কাজ করবে।
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদানও কূটনীতির মাধ্যমে সংকট সমাধানের আহবান জানিয়েছেন। তিনি আগামী জুলাইয়ে আঙ্কারায় অনুষ্ঠেয় সম্মেলনে ট্রাম্পের সঙ্গে ন্যাটোর সম্পর্ক নতুন করে শুরু করার ওপর জোর দিয়েছেন।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সব মিলিয়ে হরমুজ প্রণালী ঘিরে একদিকে ট্রাম্পের অবরোধের হুঁশিয়ারি, অন্যদিকে মিত্র দেশগুলোর দূরত্ব বজায় রাখার নীতি বিশ্ব রাজনীতিতে এক নতুন অস্থিরতার জন্ম দিয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


