যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে সমঝোতার ঘোষণা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে উন্মুক্ত বলে উল্লেখ করলেও বাস্তবে এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের কার্যক্রম।

বিবিসি ভেরিফাইয়ের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সমঝোতার ঘোষণা দেওয়ার পরও মাত্র সাতটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। অন্যদিকে প্রায় ৫৮০টি জাহাজ এখনো উপসাগরীয় অঞ্চলে অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের মোট তেল ও গ্যাস পরিবহনের প্রায় ২০ শতাংশ এই প্রণালি দিয়ে সম্পন্ন হয়। তাই এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় প্রভাব ফেলে।
নিরাপত্তা নিয়ে এখনো শঙ্কা
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের সবচেয়ে বড় বাধা নিরাপত্তা উদ্বেগ। সংঘাতের সময় ইরান অনুমতি ছাড়া চলাচলকারী কিছু জাহাজের ওপর গুলি চালায়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানের বিভিন্ন বন্দরে নৌ অবরোধ আরোপ করে।
যদিও ট্রাম্প অবরোধ শিথিল করার ঘোষণা দিয়েছেন, তবে ইরানের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি সম্পন্ন না হওয়া পর্যন্ত অনেক জাহাজ মালিক ও নাবিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। ফলে কেউই ঝুঁকি নিয়ে দ্রুত যাত্রা শুরু করতে আগ্রহী নন।
সমুদ্রে মাইনের আশঙ্কা
সংঘাত চলাকালে ইরান সতর্ক করেছিল, প্রয়োজন হলে তারা সমুদ্রপথে মাইন স্থাপন করতে পারে। পরে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা সমুদ্রে সন্দেহজনক ভাসমান বস্তুর উপস্থিতি নিয়ে সতর্কবার্তা দেয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জাহাজ চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক করার আগে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই কাজ সম্পন্ন করতে এক মাস থেকে ছয় মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
এ কারণে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ইতোমধ্যে সম্ভাব্য মাইন অপসারণ কার্যক্রমের প্রস্তুতি হিসেবে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে।
নতুন ফি বা টোলের অনিশ্চয়তা
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভবিষ্যতে হরমুজ প্রণালি ব্যবহারের ক্ষেত্রে নতুন কোনো ফি বা টোল আরোপ করা হতে পারে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা।
সংঘাতের সময় ইরান একটি নতুন কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে, যা নিরাপদ চলাচলের অনুমতি ব্যবস্থাপনার কথা জানিয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে ইরান ও ওমান যৌথভাবে প্রণালির কিছু কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারে এবং নির্দিষ্ট সেবা ফি আরোপের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
তবে এই ফি কে আদায় করবে, কীভাবে আদায় হবে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর অবস্থান কী হবে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
স্বাভাবিক হতে সময় লাগবে
বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক সমঝোতা দ্রুত হতে পারে, কিন্তু আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক নৌপরিবহন স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, সম্ভাব্য মাইন অপসারণ এবং নতুন নিয়ম-কানুন পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত অধিকাংশ জাহাজ মালিক অপেক্ষা করার পথই বেছে নেবেন।
ফলে হরমুজ প্রণালি আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলেও বাস্তবে স্বাভাবিক বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুরোপুরি ফিরতে এখনো কিছুটা সময় লাগবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



