আন্তর্জাতিক ডেস্ক : প্রযুক্তির কল্যাণে যোগাযোগ এখন হাতের মুঠোয়। আমরা চাইলেই চোখের নিমিষে পৃথিবীর যেকোনো প্রান্তে ম্যাসেজ বা মেইল করতে পারি। কিন্তু পরিস্থিতি সবসময় এমন ছিল না। পূর্বে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত তো দূরের কথা, এক শহর থেকে আরেক শহরে চিঠি কিংবা কোনো তথ্য পাঠাতে মানুষকে অনেক কাঠখড় পোহাতে হত। পোস্টাল ব্যবস্থা উন্নয়নের পূর্বে মানুষেকে চিঠিপত্র বা তথ্য পাঠাতে বার্তা বাহক বা কবুতর এর উপর নির্ভর করতে হত। এতে শুধু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ফাঁস হয়ে যাওয়ার ভয়ই ছিলনা বরং তথ্য না পৌঁছানোর ঝুঁকিও ছিল।

Advertisement
তবে পোস্টাল ব্যবস্থা উন্নয়ন হলেও গুরুত্বপূর্ণ চিঠি দ্রুততার সাথে পাঠানোর কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে দ্রুততম ব্যবস্থা খুঁজতে গিয়ে মানুষ এমন এক পন্থা আবিষ্কার করে যা কিছুটা মশা মারতে কামান দাগার মতই। কিছু আবিষ্কারক দ্রুততম সময়ের মধ্যে চিঠিপত্র পাঠাতে রকেট ব্যবহারের চিন্তা করে। ব্যপারটা হাস্যকর হলেও শুধু মধ্যযুগেই নয় বরং বিংশ শতাব্দীতেও মার্কিনরা মিসাইল দিয়ে চিঠিপত্র পাঠাতো। তাহলে জেনে নেয়া যাক রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র পাঠানোর চেষ্টা সম্পর্কে-

মিসাইল ও রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র পাঠানোর পরিকল্পনাটি আসে মধ্যযুগের একটি রীতি থেকে। মধ্যযুগে নদীর এপার থেকে ওপারে বা এক দূর্গ থেকে অন্য দূর্গে খবর পাঠানোর জন্য মানুষ তীর এবং বর্শা ব্যবহার করত। পরবর্তীতে, ১৮৮০ সালে হেনরিক ভন ক্লিস্ট নামক এক জার্মান লেখক প্রথম আর্টিলারি সেলের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ চিঠিপত্র ঢুকিয়ে একস্থান থেকে অন্যস্থানে পাঠানোর প্রস্তাব দেয়। কিন্তু তখন এই প্রস্তাব হাস্যকর বলে উড়িয়ে দেয়া হয়। তবে ১৯ শতকের শুরুতে টঙ্গার নিউয়াফো দ্বীপের অধিবাসীদের কনগ্রিভ রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র পাঠানোর কথা শোনা যায়। দ্বীপটির কোনো সৈকত কিংবা নৌবন্দর না থাকার কারণে এই ব্যবস্থা নেয়া হয়। কিন্তু কনগ্রিভ রকেট কোনো স্থায়ী সমাধান ছিল না। কারণ এই রকেটেদের একুরেসি খারাপ ছিল। এভাবে রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান প্রদানের আরো অনেক অসফল চেষ্টা চালানো হয়।

রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান প্রদানে প্রথম সফল হয় অস্ট্রিয়া এবং ইন্ডিয়ার উদ্ভাবক। ২০ শতকের শুরুর দিকে অস্ট্রিয়ান উদ্ভাবক ফ্রেডরিখ স্কিমেল্ড এমন কিছু রকেট তৈরি করেন যা নির্দিষ্ট টার্গেটে পৌঁছাতে সম্ভব। তিনি এসকল রকেটের মাধ্যমে সফলভাবে ৬ কিলোমিটার দূরেও চিঠিপত্র পাঠাতে সক্ষম হন। কিন্তু বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে অস্ট্রিয়ার সরকার এই প্রোজেক্ট এর অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। এছাড়াও তার প্রযুক্তি যাতে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত না হয় এজন্য ফ্রেডরিক তার সব নকশা এবং রকেট নষ্ট করে ফেলে। অপরদিকে ইন্ডিয়ান এয়ারমেইল এর চেয়ারম্যান স্টিফেন স্মিথ ১৯৩৪ থেকে ১৯৪৪ সাল পর্যন্ত সফলভাব ৮০ টি রকেট এর মাধ্যমে চিঠিপত্র আদান প্রদান করে। তার এই ব্যবস্থা এতটাই জনপ্রিয় হয় যে বন্যার্তদের ত্রান পাঠাতেও রকেট ব্যবহারের চিন্তা করা হয়।

রকেটের মাধ্যমে চিঠিপত্র পাঠানোর সর্বশেষ চেষ্টাটি করে যুক্তরাষ্ট্র। ১৯৩৬ সালে প্রথম নিউইয়র্ক থেকে নিউ জার্সিতে সফলভাবে এয়ারমেইল বা রকেটে করে চিঠি পাঠানো হয়। কিন্তু অন্যান্য দেশের মত যুক্তরাষ্ট্রে এই ব্যবস্থা থেমে যায়নি। এয়ারমেইল এর উন্নয়নে ইউ এস আর্মি এবং পোস্টাল সার্ভিস একত্রে কাজ করে। এই ব্যবস্থাটি মূলত স্নায়ুযুদ্ধের শুরুতে রাশিয়ানদের পারমাণবিক মিসাইলের ভয় দেখানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্র ব্যবহার করে। যুক্তরাষ্ট্রের আই-এ গাইডেড মিসাইলগুলো একত্রে প্রায় ৩ হাজার চিঠি বহন করতে পারত। এছাড়াও এসকল মিসাইল ২০০ মাইল দূরের টার্গেটেও সফলভাবে পৌঁছাতে সক্ষম ছিল। যা দিয়ে ইউ এস আর্মি রাশিয়ানদের মার্কিন মিসাইলের একুরেসি সম্পর্কে ধারনা দিয়েছিল। কিন্তু পুরো যুক্তরাষ্ট্র জুড়ে অনেক সফল এয়ারমেইল বা মিসাইল উৎক্ষেপণ হলেও মার্কিন পোস্টাল সার্ভিস কখনো অফিশিয়ালভাবে এয়ারমেইল চালু করেনি।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google