হরমুজ প্রণালী ঘিরে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে এখন চলছে চরম নাটকীয় ‘ইঁদুর-বেড়াল’ খেলা। একদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করছেন যে, প্রণালীটি এখন সম্পূর্ণভাবে আমেরিকার নিয়ন্ত্রণে এবং তাদের অবরোধ ‘অভাবনীয় সফল’। অন্যদিকে বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা, মার্কিন পাহারার চোখ ফাঁকি দিয়ে বুক ফুলিয়ে সাগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে ইরানের তেলবাহী ট্যাঙ্কার।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গর্জনের সাথে জানিয়েছেন, ইরানের সাথে একটি ‘চূড়ান্ত চুক্তি’ না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ উঠবে না। কিন্তু ফিনান্সিয়াল টাইমসের এক রিপোর্টে ট্রাম্পের সেই দাপুটে দাবি কার্যত নস্যাৎ হয়ে গেছে। রিপোর্টে দেখা গেছে, গত ১৩ এপ্রিল অবরোধ শুরু হওয়ার পর থেকে অন্তত ৩৪টি ইরানি সংশ্লিষ্ট ট্যাঙ্কার মার্কিন অবরোধ অবলীলায় পার করে গেছে। যেখানে সেন্টকম দাবি করছে তারা ২৮টি জাহাজকে ফিরিয়ে দিয়েছে, সেখানে এই ৩৪টি জাহাজের নির্বিঘ্ন চলাচল পেন্টাগনের নজরদারি নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।
মার্কিন অবরোধকে বুড়ো আঙুল দেখানোর সবচেয়ে রোমাঞ্চকর উদাহরণ তৈরি করেছে ইরানি সুপারট্যাঙ্কার ‘ডোরেনা’। জাহাজটি নিজের লোকেশন ট্র্যাকার বা ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়ে ঘুটঘুটে অন্ধকারে মার্কিন পাহারাদারদের পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যায়। শুধু তাই নয়, তেলের উৎস লুকাতে মালয়েশিয়া উপকূলে অন্য একটি জাহাজের সাথে মাঝসমুদ্রে তেল অদলবদলও করেছে এটি।
হিসাব বলছে, এ পর্যন্ত বের হয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে অন্তত ৬টি জাহাজ প্রায় ১ কোটি ৭ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল বহন করছিল। বিশ্ববাজারের চেয়ে কিছুটা কম দামে বিক্রি করলেও এই এক চালান থেকেই ইরানের পকেটে ঢুকছে প্রায় ৯১০ মিলিয়ন ডলার! অর্থাৎ, ট্রাম্পের অবরোধ যখন ইরানকে ভাতে মারার চেষ্টা করছে, তখন তেহরান চোরা পথে ঠিকই ডলারের মুখ দেখছে।
আমেরিকা যখন অবরোধ নিয়ে ব্যস্ত, ঠিক তখনই ইরান পাল্টা চাল চেলেছে। ইরানের নৌবাহিনী ঘোষণা করেছে, হরমুজ প্রণালী এখন তাদের ‘আগের অবস্থায়’ ফিরে গেছে। এক্সে বার্তায় তারা স্পষ্ট জানিয়েছে, এখন থেকে এই পথ দিয়ে যেতে হলে আইআরজিসির অনুমতি বাধ্যতামূলক। শুধু তাই নয়, বেসামরিক জাহাজকে ইরানের দেখানো নির্দিষ্ট রুটেই চলতে হবে এবং সামরিক জাহাজের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
এই পরিস্থিতির যাঁতাকলে পড়ে সাধারণ জাহাজ মালিকরা এখন দিশেহারা। তারা একে বলছেন ‘ডাবল ব্লকেড’ বা দ্বিমুখী অবরোধ। একদিকে মার্কিন সেনারা পথ আটকে দাঁড়িয়ে আছে, অন্যদিকে ইরানি সেনারা অনুমতি ছাড়া জাহাজ দেখলে গুলি ছুড়ছে। গত শনিবার একটি ফরাসি কন্টেইনার জাহাজ এবং একটি ভারতীয় ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে ইরানি সেনাদের গুলি ছোঁড়ার ঘটনা এই উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। সব মিলিয়ে হরমুজ এখন এক রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে, যেখানে দাবার চাল পাল্টে যাচ্ছে প্রতি মুহূর্তে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


