ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই দেশটির ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্রের ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। মূলত জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে ভারতসহ অর্ধশতাধিক দেশের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর)। যদিও এটি এখনো চূড়ান্ত হয়নি, তবে কার্যকর হলে দুই দেশের বাণিজ্য সম্পর্কে নতুন চাপ সৃষ্টি হতে পারে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে অন্তত ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাষ্ট্র। ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন আইনি জটিলতার মুখে পড়ার পর তাদের শুল্কনীতি নতুনভাবে সাজানোর অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর (ইউএসটিআর) প্রস্তাবিত এই শুল্কহার ১০ শতাংশ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে বলে সরকারি নথিতে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্য আমদানি প্রতিরোধে ব্যর্থ হওয়ার অভিযোগে কানাডা, মেক্সিকো, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্যের ওপর ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
অন্যদিকে চীন, জাপান, ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল ও সুইজারল্যান্ডসহ কয়েকটি দেশের ওপর অতিরিক্ত ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে এই শুল্ক তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর হচ্ছে না। জনমত গ্রহণ ও পর্যালোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কার্যকর হলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সুপ্রিম কোর্টের কিছু বিধিনিষেধ পাশ কাটিয়ে নতুন শুল্ক কার্যকর করতে পারবেন।
যুক্তরাষ্ট্র কীভাবে নতুন শুল্ক আরোপের পরিকল্পনা করছে
১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ৩০১(বি)(১) ধারার আওতায় কয়েক মাস আগে যুক্তরাষ্ট্র বিভিন্ন বাণিজ্য অংশীদার দেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে। এই তদন্তের উদ্দেশ্য ছিল সংশ্লিষ্ট দেশগুলো জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে কী ব্যবস্থা নিয়েছে এবং তা যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যে কী প্রভাব ফেলছে তা মূল্যায়ন করা।
মঙ্গলবার ইউএসটিআর জানায়, ৫৪টি দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি নিষিদ্ধ করার জন্য যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ বা কার্যকর প্রয়োগে ব্যর্থ হয়েছে। এই তালিকায় চীন, ভারত, বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, তাইওয়ান, ইরাক, ইসরায়েল, জাপান, কাতার, রাশিয়া, সৌদি আরব, সিঙ্গাপুর, সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং যুক্তরাজ্যসহ আরও অনেক দেশ রয়েছে।
এ ছাড়া কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো ও পাকিস্তানকে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ বলে বিবেচনা করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের প্রধান জেমিসন গ্রিয়ার এক বিবৃতিতে বলেন, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি রোধে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য অংশীদারদের ব্যর্থতা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর মতে, এর ফলে মার্কিন শ্রমিকরা অসম প্রতিযোগিতার মুখে পড়ছে।
প্রস্তাবিত শুল্কে কিছু ব্যতিক্রমও রাখা হয়েছে। গরুর মাংস, কফি এবং নির্দিষ্ট কিছু ফল ও বাদামের ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য হবে না। পাশাপাশি উত্তর আমেরিকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির আওতাভুক্ত কানাডা ও মেক্সিকোর কিছু পণ্য এবং নির্দিষ্ট বস্ত্র ও পোশাকও ছাড় পাবে।
জনগণ আগামী ৬ জুলাই পর্যন্ত এ বিষয়ে লিখিত মতামত দিতে পারবে। এরপর ইউএসটিআর শুনানির আয়োজন করবে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের আরোপিত কিছু শুল্ক বাতিল করার পর যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা দীর্ঘমেয়াদি শুল্ক কাঠামো তৈরির লক্ষ্যে নতুন করে তদন্ত শুরু করেন।
জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত এই তদন্তের পাশাপাশি অতিরিক্ত শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা নিয়েও আলাদা তদন্ত চালাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তর।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



