সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জে এক নারীর চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামতও উদ্ধার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তির নাম মোশাররফ হোসেন (৪৫)। তিনি মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলী গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ জানায়, মোশাররফ দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং দুই স্ত্রীই তাঁকে তালাক দিয়ে চলে যান। অর্থনৈতিক বিরোধ ও ব্যক্তিগত ক্ষোভ থেকেই তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত ১০ জানুয়ারি রাতে মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার পৌলী গ্রামে নিজ বাড়িতে খুন হন নুরজাহান বেগম (৫৫)। তিনি স্থানীয়ভাবে একটি মুদি দোকান পরিচালনা করতেন। ঘটনার পরদিন তাঁর মেয়ে কাজল রেখা একাধিকবার মায়ের মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও ফোন বন্ধ পান। পরে ভাড়াটিয়ার মাধ্যমে জানতে পারেন, বাড়ির দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ।
সারাদিন খোঁজাখুঁজির পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্বজনেরা ঘরের ভেতরে আলো জ্বলা দেখতে পান। পরে দরজার তালা ভেঙে ঘরে ঢুকে খাটের ওপর নুরজাহান বেগমের রক্তাক্ত নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তাঁরা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মানিকগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
মামলার এজাহারে বাদী কাজল রেখা উল্লেখ করেন, টিনশেড ঘরের গোসলখানার ভেন্টিলেটরের ফাঁকা জায়গা দিয়ে দুর্বৃত্তরা ঘরে ঢুকে ধারালো অস্ত্রসহ বিভিন্ন উপায়ে তাঁর মাকে হত্যা করে।
ঘটনার পর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলমের সার্বিক তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) এবং জেলা গোয়েন্দা শাখার একটি দল তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তি ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১৩ জানুয়ারি রাত আড়াইটার দিকে শিবালয় উপজেলার দক্ষিণ শালজানা এলাকা থেকে মোশাররফ হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর মোশাররফ স্বীকার করেছেন যে, নুরজাহান বেগমের সঙ্গে তাঁর অর্থনৈতিক লেনদেন নিয়ে বিরোধ চলছিল। পাওনা টাকা আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া এবং জনসম্মুখে অপমানজনক মন্তব্য করায় তিনি ক্ষুব্ধ হন। এ থেকেই হত্যার পরিকল্পনা করেন।
স্বীকারোক্তিতে আসামি জানান, ঘটনার রাতে সুযোগ বুঝে তিনি নুরজাহানের ঘরে ঢুকে প্রথমে কাঠের পিঁড়ি দিয়ে মাথায় আঘাত করেন। পরে ওড়না ও কাঁথা দিয়ে শ্বাসরোধের চেষ্টা করেন। মৃত্যু নিশ্চিত করতে শেষে বৈদ্যুতিক তার গলায় পেঁচিয়ে হত্যা করে পালিয়ে যান। হত্যার পর ভিকটিমের কানের দুলসহ কিছু মালামাল নিয়ে আত্মগোপনে চলে যান তিনি।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাসুদ মুন্সী জানান, মঙ্গলবার বিকেলে আসামি সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
তিনি আরও জানান, আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে আসামি বলেন—নুরজাহানের বাড়িতে তিনি ভাড়াটিয়া হিসেবে থাকতেন। বকেয়া বাড়ি ভাড়া এবং দোকানে চা-পানের বাকি টাকার জন্য নুরজাহান তাঁকে নিয়মিত চাপ দিতেন। পাশাপাশি দাম্পত্যবিরোধে স্ত্রী চলে যাওয়ায় নুরজাহান জনসম্মুখে তাঁকে নিয়ে অপমানজনক মন্তব্য করতেন। এসব কারণে ক্ষুব্ধ হয়ে তিনি ওই নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন।
আদালতের নির্দেশে মঙ্গলবার বিকেলে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে বলে জানান এসআই মাসুদ মুন্সী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


