সাইফুল ইসলাম : মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলায় খাল পুনঃখনন কার্যক্রমে কাজ পেয়ে খুশি প্রকাশ করেছেন অতি দরিদ্র নারী শ্রমিকরা। তাদের প্রত্যাশা, এই কর্মসংস্থানের পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ড সুবিধা পেলে জীবনযাত্রা আরও স্বস্তিদায়ক হবে।

রবিবার (৩ মে) দুপুরে উপজেলার উলাইল খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে শ্রমিকরা নিজেদের অনুভূতি ব্যক্ত করেন। এর আগে সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মানিকগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানে শিবালয় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনীষা রাণী কর্মকারের সভাপতিত্বে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তাহমিনা আক্তার, উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনিসুর রহমান, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক কাহী মোশতাক হোসেন দীপুসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
খাল খননের কাজে নিয়োজিত শ্রমিক মমতাজ বেগম বলেন, দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে তার সংসার চালাতে কষ্ট হতো। এই কাজ পাওয়ায় এখন পরিবারের খরচ চালানো সহজ হবে এবং সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয় মেটাতে সুবিধা হবে। তিনি বলেন, “ফ্যামিলি কার্ড পেলে আমরা আরও উপকৃত হবো।”
আরেক শ্রমিক সালমা বেগম বলেন, খাল পুনঃখনন প্রকল্পের মাধ্যমে এলাকায় অনেক মানুষের কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে, যা তাদের জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে। রেখা আক্তারও একই ধরনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করে বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।
স্থানীয় কৃষকরাও এই প্রকল্পকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। কৃষক রহিজ উদ্দিন জানান, খালটি পুনঃখনন করা হলে তার কৃষিজমিতে আর পানি জমে থাকবে না, ফলে ফসলের উৎপাদন বাড়বে।
একইভাবে কৃষক সাখাওয়াত হোসেন বলেন, খালটি খনন হলে জমিতে পানির সঠিক প্রবাহ নিশ্চিত হবে, পাশাপাশি মাছ উৎপাদনও বাড়বে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অতি দরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পের আওতায় আমডালা খালের প্রায় সাড়ে চার কিলোমিটার পুনঃখনন করা হবে। ৪০ দিনের এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারী নারী শ্রমিকদের প্রতিদিন ৫০০ টাকা করে মোট ২০ হাজার টাকা প্রদান করা হবে।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য এস এ জিন্নাহ কবীর বলেন, স্বাধীনতার পর খাল খনন কার্যক্রম কৃষি উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তিনি দাবি করেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান মানিকগঞ্জ থেকেই খাল খনন কর্মসূচি শুরু করেছিলেন এবং তার ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার দেশজুড়ে এই কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, কৃষকদের সেচ সুবিধা নিশ্চিত করে সারা বছর ফসল উৎপাদন বাড়ানোই এই প্রকল্পের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি দরিদ্র নারীদের কর্মসংস্থানের মাধ্যমে তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করাও এই উদ্যোগের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


