জুমবাংলা ডেস্ক : আগামী বছর থেকে চার শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম। ‘উঠে যাচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতি‘ এই শিরোনামে ১লা জুন ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। প্রতিবেদটি করেছেন সাংবাদিক নিজামুল হক

এদিকে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী বছর থেকেই পরীক্ষাসহ শিক্ষা ও পাঠক্রমে ব্যাপক পরিবর্তন আসছে। আর এটা কার্যকর করতে প্রয়োজন ব্যাপক প্রস্তুতি ও প্রশিক্ষণ। শিক্ষকদের যেমন প্রয়োজন তেমনি ছাত্রদেরও মানসিক প্রস্তুতি দরকার। সেটা কত দূর নতুন শিক্ষাক্রমে এখনকার মত আর এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষা হবে না।

আগামী বছর থেকে উঠে যাচ্ছে সৃজনশীল পদ্ধতি, এ নিয়ে বহু তথ্য
ফাইল ছবি
Advertisement

ইত্তেফাকের অনলাইন সংস্করণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- আগামী বছর থেকে নতুন কারিকুলামে প্রবেশ করতে যাচ্ছে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা। নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের শুরুর বছরে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন বই দেওয়া হবে। এরপর ২০২৫ সালের মধ্যে মাধ্যমিক স্তরে সব শ্রেণিতে বাস্তবায়ন হবে।

নতুন কারিকুলাম অনুযায়ী, বিষয় ও পরীক্ষা কমিয়ে বইয়ে আনা হয়েছে পরিবর্তন। প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা এক বছরের পরিবর্তে দুই বছর হবে। দশম শ্রেণির আগে কোনো পাবলিক পরীক্ষা থাকবে না। একজন শিক্ষার্থী বিজ্ঞান, মানবিক নাকি ব্যবসায় শিক্ষায় পড়বে, সেটি ঠিক হবে উচ্চমাধ্যমিকে গিয়ে। নতুন কারিকুলামে সাপ্তাহিক ছুটি থাকবে দুই দিন।

এছাড়াও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, তবে এই কারিকুলামে পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতি কী হবে এ বিষয়টি নিয়েই সবার আগ্রহ রয়েছে। কারণ চলমান সৃজনশীল পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং অভিভাবকদের ভীতি এখনো রয়েছে। তাই তারাও চাইছেন এ পদ্ধতি না থাকুক। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নতুন কারিকুলাম বাস্তবায়নের পর পরীক্ষায় সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি থাকবে না। কোন পদ্ধতির আলোকে প্রশ্ন থাকবে তা প্রকাশ করা হবে নভেম্বরে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক নেহাল আহমেদ জাতীয় এই দৈনিককে জানান, সৃজনশীল পদ্ধতিতে আগামী বছর থেকে তো আর পরীক্ষা থাকছে না। উন্নত বিশ্বের পরীক্ষা পদ্ধতির আলোকেই তৈরি করা হয়েছে। একই তথ্য জানিয়েছেন ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক তপন কুমার সরকার। তিনি ইত্তেফাকের কাছে বলেছেন, নতুন কারিকুলামে সৃজনশীল প্রশ্ন থাকছে না। সেখানে অন্য রকমের প্রশ্নপত্র হবে।

আর জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সদস্য (কারিকুলাম) অধ্যাপক ড. মশিউজ্জামান বলেন, পরীক্ষার প্রশ্ন পদ্ধতি কেমন হবে আগামী নভেম্বরে প্রকাশ করা হবে। কেন বিলম্বে প্রকাশ করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন প্রকাশ করা হলে নোট গাইড মালিকরা আগেভাগেই এগুলো ছাপিয়ে ফেলবে।

মুখস্থনির্ভর পড়াশুনার পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা যাচাই করার লক্ষ্যে সৃজনশীল প্রশ্ন পদ্ধতি চালু হয়েছিল। ২০০৮ সাল থেকে দেশে যখন এটি চালু করা হয়, তখন বলা হয়েছিল, এই পদ্ধতিতে নোট-গাইড বই থাকবে না, কোচিং-প্রাইভেট বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু ফল হয়েছে উলটো। শিক্ষকরাই বিষয়টি ভালোভাবে না বোঝায় শিক্ষার্থীদের কোচিং-প্রাইভেট বা সহায়ক বইয়ের দ্বারস্থ হতে হচ্ছে আগের চেয়ে আরো বেশি। অভিভাবকদেরও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। ভীত রয়েছেন শিক্ষকরাও। প্রায় ৪২ ভাগ শিক্ষকের এ বিষয়ে ধারণা নেই। এসব কারণে এ পদ্ধতি বাতিলের দাবি ছিল শুরু থেকেই। অনেকেই মনে করছেন, সৃজনশীল পদ্ধতি চালু করাই ছিল শিক্ষায় সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত। যার খেসারত দিয়েছে সবাই।

নতুন কারিকুলামে আরো যা থাকবে

নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষা হবে দুই বছরমেয়াদি। শিক্ষাক্রম অনুযায়ী, প্রথম ও তৃতীয় শ্রেণির আগে স্কুলে কোনো পরীক্ষা থাকবে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেই ধারাবাহিকভাবে মূল্যায়ন হবে। প্রাথমিকের প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় শ্রেণিতে শিখনকালীন মূল্যায়ন বা ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে শতভাগ। চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং সামাজিক বিজ্ঞান বিষয়ে শিখনকালীন মূল্যায়ন হবে ৬০ শতাংশ। সামষ্টিক মূল্যায়ন ৪০ শতাংশ। স্বাস্থ্য সুরক্ষা, ধর্ম শিক্ষা ও শিল্পকলায় শিখনকালীন মূল্যায়ন ১০০ শতাংশ।

ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিজ্ঞান এবং ইতিহাস ও সামাজিক বিজ্ঞানে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৬০ শতাংশ। সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে ৪০ শতাংশ। নবম ও দশম শ্রেণিতে ৫০ শতাংশ শিখনকালীন ও ৫০ শতাংশ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে। দশম শ্রেণিতে গিয়ে হবে পাবলিক পরীক্ষা। শুধু দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ভিত্তিতে এসএসসি পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপর প্রতিবর্ষ শেষে একটি করে পরীক্ষা হবে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির পরীক্ষার ফলাফলের সমন্বয়ে চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হবে। এই স্তরে শিখনকালীন মূল্যায়ন ৩০ শতাংশ আর সামষ্টিক মূল্যায়ন ৭০ শতাংশ।

বিষয় নির্ধারণ : প্রাথমিকের জন্য আটটি বিষয় নির্বাচন করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত সব শিক্ষার্থীকে ১০টি অভিন্ন বই পড়ানো হবে। নতুন শিক্ষাক্রমে একাদশ শ্রেণিতে গিয়ে শাখা পরিবর্তন হবে। এই স্তরে তিনটি আবশ্যিক বিষয় থাকবে।

কবে থেকে কোন শ্রেণিতে নতুন বই

২০২৩ সালে প্রথম, দ্বিতীয়, ষষ্ঠ ও সপ্তম শ্রেণিতে নতুন শিক্ষাক্রম, অষ্টম শ্রেণি ২০২৪ তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণি ও অষ্টম ও নবম শ্রেণি, ২০২৫ সালে ৫ম ও ১০ম শ্রেণি, ২০২৬ সালে একাদশ ও ২০২৭ সালে দ্বাদশ শ্রেণিতে নতুন কারিকুলাম।

বিশাল স্তানের জন্য বিমান থেকে নামিয়ে দেয়া হলো এই মডেলকে

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.