অনেক দিন ধরে পর্দায় নেই ভারতীয় বাংলা সিনেমার বর্ষীয়ান অভিনেতা সব্যসাচী চক্রবর্তী। স্ত্রী মিঠু চক্রবর্তী অসুস্থ হওয়ার পর তার সঙ্গে সময় কাটিয়েছেন। তাছাড়া নিজেও শারীরিকভাবে গুরুতর অসুস্থ তিনি। দুই বছর আগে অভিনয় থেকে অবসর গ্রহণের ইচ্ছার কথাও জানান এই শিল্পী। আশার কথা হলো, ফের পর্দায় দেখা যাবে সব্যসাচীকে।

হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, ক্যানসারের সঙ্গে লড়াই করে ইতোমধ্যে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন মিঠু চক্রবর্তী। এবার পুরোনো সেই গ্রুপে আবার দেখা যাবে সব্যসাচী চক্রবর্তীকে। খুব শিগগির ওটিটি প্ল্যাটফর্ম হইচই-এ মুক্তি পাবে ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’ সিরিজের তৃতীয় সিজন। এতে অভিনয় করেছেন সব্যসাচী।
সিরিজটির নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন ঋত্বিক চক্রবর্তী। যে সত্যিকে সবার সামনে আনার জন্য লড়াই করে থাকে। তবে সব্যসাচী চক্রবর্তী কোন চরিত্রে অভিনয় করছেন তা অবশ্য জানা যায়নি। যে চরিত্রেই অভিনয় করুক না কেন, বহুদিন পর সব্যসাচী চক্রবর্তীকে পর্দায় দেখার খবরে উচ্ছ্বসিত তার ভক্ত-অনুরাগীরা।
ঋত্বিক চক্রবর্তী এবং সব্যসাচী চক্রবর্তী ছাড়া এই সিরিজে থাকবেন খেয়া চট্টোপাধ্যায় এবং দেবরাজ ভট্টাচার্য। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে সিরিজের শুটিং।
জয়দীপ মুখার্জি পরিচালিত ‘অ্যাডভোকেট অচিন্ত্য আইচ’ সিরিজের তৃতীয় সিজনে আরো অভিনয় করছেন—খেয়া চ্যাটার্জি, দেবরাজ ভট্টাচার্য, ইশা সাহা প্রমুখ। ইশার আগমন এ সিরিজে নতুন চমক। তার চরিত্রকে কেন্দ্র করে এগিয়ে যাবে সিরিজটির কাহিনি।
পর্দার ‘ফেলুদা’ ১৯৫৬ সালের ৮ সেপ্টেম্বর ভারতের কলকাতায় জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৭৫ সালে এইচএসসি পাস করেন। হংসরাজ কলেজ থেকে বিএসসি ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৮ সালে দিল্লিতে এএমআই পরীক্ষায় উত্তীর্ন হন। ১৯৮৬ সালে মিঠু চক্রবর্তীকে বিয়ে করেন সব্যসাচী। তাদের সংসারে গৌরব ও অর্জুন নামে দুই ছেলে রয়েছে।
১৯৯২ সালে অভিনয়ে নাম লেখান সব্যসাচী। ‘তেরো পার্বন’ টিভি সিরিয়ালের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের দর্শকদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন তিনি। ‘রুদ্রসেনের ডায়েরি’ টিভি সিরিয়ালে প্রথম গোয়েন্দা চরিত্রে অভিনয় করেন। পরে বাঙালি গোয়েন্দা চরিত্রে তার সাবলীল অভিনয় মুগ্ধ করে দর্শকদের।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
সব্যসাচীর সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে—সত্যজিৎ রায়ের ‘ফেলুদা’, সন্দীপ রায়ের ‘বাক্স রহস্য’। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘অন্তর্ধান’। এছাড়াও তার অভিনীত সিনেমা হলো: ‘কাকাবাবু হেরে গেলেন’, ‘তিনকাহন’, ‘হেমলক সোসাইটি’, ‘থানা থেকে আসছি’, ‘রয়েল বেঙ্গল রহস্য’, ‘ল্যাবরেটরি’, ‘গোরস্থানে সাবধান’, ‘ভূতের ভবিষ্যৎ’ প্রভৃতি। অভিনয় ছাড়াও প্রকৃতি-পরিবেশের প্রতি তার ভালোবাসা রয়েছে। তিনি একজন ওয়াইল্ড লাইফ ফটোগ্রাফার।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



