জুমবাংলা ডেস্ক : মাত্র আড়াই টাকা নয়-ছয়ের দায়ে চাকরিচ্যুত। জেল খাটেন ২ মাস। ঘটনাটি এরশাদের আমলের। ৩৯ বছর পর এসে বাতিল হলো এই সাজা। বুঝিয়ে দিতে বলা হয়েছে বেতন-ভাতার প্রায় দেড় কোটি টাকা।
সোমবার (২৮ জুন) দেশের সর্বোচ্চ আদালতে এ রায় দেওয়া হয়।
১৯৮২ সালে কুষ্টিয়ায় পাট সম্প্রসারণ সহকারী ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল আলম আকন। মাত্র আড়াই টাকা বেশি দরে পাটের বিজ বিক্রির কথিত অভিযোগে চাকরি যায় তার। জরিমানা করা হয় এক হাজার টাকা, জেল হয় দুই মাসের।
চাকরি হারিয়ে জেল খেটে ফিরে যান পটুয়াখালী। এজন্য তার পরিবারকে সহ্য করতে হয়েছে সামাজিক নানা বঞ্চনা।
মুক্তিযোদ্ধা ওবায়দুল আলমের আকনের ছেলে সোহেল আকন বলেন, ‘খুব কষ্ট হয়, আমরা যখন বড় হই তখন এলাকা দিয়ে হাঁটার সময় মানুষ বলতো ওই যে যাচ্ছে আড়াই টাকার অভিযোগে বাবার চাকরি গেছে। আমাদের অনেক কলঙ্ক বহন করতে হয়েছে। আজকে কলঙ্কমুক্ত হলাম।’
দেশের সর্বোচ্চ আদালত এরশাদের আমলের সব আদেশ বাতিল হলে শুরু করেন আইনিযুদ্ধ। সাজা বাতিল এবং বেতন ভাতা পেতে মামলা করেন হাইকোর্টে। তার পক্ষে রায় দেন আদালত। আপিল বিভাগেও সেই রায় বহাল থাকে।
৩৯ বছর পর আদালতের এ রায়ে খুশি মুক্তিযোদ্ধা আকন।
ভুক্তভোগী আকন বলেন, ‘আমরা সবাই অনেক শঙ্কিত ছিলাম। আজকে অনেক আনন্দ লাগছে। আমার মনের অনন্দ ধরে রাখতে পারছি না।’
আকনের ছেলে বলেন, ‘বাবা-মামা এই টাকা দিয়ে হজ্জ করতে যাবে। আর আমাদের গ্রামে কোনো বাড়িঘর নাই। আমরা সুন্দর বাড়ি করব।’
২০১২ সালে অবসর নেয়ার কথা ছিল তার। সে হিসাবে বেতন-বোনাস-পদোন্নতি মিলে প্রায় দেড় কোটি টাকা সরকারের কাছে পাচ্ছেন তিনি। যা দ্রুত পরিশোধ করার দাবি তাদের।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


