কর্মব্যস্ত জীবন এবং খাওয়া-দাওয়ায় ব্যাপক অনিয়ম যেসব অসুখ ডেকে আনছে, তার মধ্যে অন্যতম হল রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া। খাবার হজমের পর শরীরে এ অ্যাসিড তৈরি হয়। মাত্রাতিরিক্ত প্রোটিন খেলে বা ওজন বেড়ে গেলে শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের পরিমাণ বেড়ে যায়।

অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীরের অস্থিসন্ধি ও মূত্রনালিতে জমা হতে শুরু করে। ফলে জমতে থাকা ইউরিক অ্যাসিড ক্রিস্টালের আকার নেয়। এটি গাঁটে ব্যথা ও প্রস্রাবের সংক্রমণ ডেকে আনে। এ ছাড়া শরীরে এ অ্যাসিড বেশি মাত্রায় জমতে শুরু করলে কিডনিতে পাথর জমতে পারে। লিভারেও সমস্যা দেখা দেয়। এ সময় ইউরিক অ্যাসিডে ভোগা ব্যক্তির কোন কোন ডাল খাওয়া উচিত, আর কোনটি উচিত নয়, চলুন দেখে নিই।
মুগ ডাল: এ ডালে পিউরিনের মাত্রা থাকে ২৫ থেকে ৩৫ মিলিগ্রাম। অন্যান্য ডালের তুলনায় যা অনেকটাই কম। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি না থাকলে প্রতি দিন এ ডাল খাওয়া যেতে পারে।
মুসুর ডাল ও সবুজ ছিলকাযুক্ত মুগ ডাল: মুগ ডালের তুলনায় এ ডালগুলিতে পিউরিনের মাত্রা সামান্য বেশি, প্রায় ৩৫ থেকে ৫০ মিলিগ্রাম। ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা খুব বেশি না থাকলে সপ্তাহে তিন থেকে চার দিন এ ডাল খাওয়া যেতে পারে। তবে রান্নার আগে ছয় থেকে আট ঘণ্টা এই ডাল ভিজিয়ে রাখতে হবে।
কাবলি ছোলা, লাল ছোলা, রাজমা বা লাল কিডনি বিন: এই ডালগুলিতে পিউরিনের মাত্রা বেশি। এতে প্রায় ৭৫-৯০ মিলিগ্রাম পিউরিন থাকে। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর ডালগুলি খাওয়া যেতে পারে।
সয়াবিন: এতে পিউরিনের মাত্রা অনেকটাই বেশি, প্রায় ১২০-১৪০ মিলিগ্রাম। ইউরিক অ্যাসিড থাকলে সয়াজাতীয় খাবার সম্পূর্ণ রূপে বাদ দেওয়াই ভালো।
ইউরিক অ্যাসিড বাড়লে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা ভীষণ জরুরি, এর পাশাপাশি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে।
বিশেষ সতর্কতা: প্রতিবেদনটি সচেতনতার উদ্দেশ্যে লেখা। শরীরে ইউরিক অ্যাসিড থাকলে অধিক সচেতনতার জন্য খাদ্য তালিকায় পরিবর্তনে অবশ্যই চিকিৎসক ও পুষ্টিবিদের সঙ্গে পরামর্শ করুন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


