একুশ শতকের যুদ্ধক্ষেত্রে দ্রুত বদলে যাচ্ছে কৌশল। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপট প্রমাণ করছে ব্যয়বহুল অস্ত্র নয়, বরং স্বল্পমূল্যের কার্যকর ড্রোনই এখন যুদ্ধের কার্যকরী নির্ধারক। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ড্রোন প্রযুক্তি এখন আধুনিক যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। দীর্ঘদিন ধরে স্বল্পমূল্যের কামিকাজে ড্রোন ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে ইরান। এর মধ্যে সবচেয়ে আলোচিত হচ্ছে ইরানের তৈরি ‘হেসা শাহেদ ১৩৬’।
এই ড্রোনের নির্মাণ খরচ তুলনামূলকভাবে কম—প্রায় ২০ থেকে ৫০ হাজার ডলার। কিন্তু এটিকে ধ্বংস করতে যুক্তরাষ্ট্রকে অনেক সময় ব্যবহার করতে হয় প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র, যার প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের দাম প্রায় ৪০ লাখ ডলার। এই ব্যয়ের বৈষম্যই ইরানের ‘অপ্রতিসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিম্যাট্রিক ওয়ারফেয়ারের বড় শক্তি।
এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রও এবার কম খরচের নতুন ড্রোন তৈরি করেছে যার নাম ‘ফ্লোরিডা লো-কস্ট আনক্রুড কমব্যাট অ্যাটাক সিস্টেম’ বা লুকাস (LUCAS FLM 136)। প্রতিটি লুকাস ড্রোনের দাম প্রায় ৩৫ হাজার ডলার, যা ইরানের শাহেদ ড্রোনের সঙ্গে খরচ ও কার্যকারিতার দিক থেকে পাল্লা দিতে পারে।
রোববার ইরানের সামরিক বাহিনী অভিযোগ করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল লুকাস ড্রোন ব্যবহার করছে, যা দেখতে অনেকটা শাহেদ ড্রোনের মতো। তাদের দাবি, এই ড্রোন দিয়ে প্রতিবেশী ও মিত্র দেশগুলোতে হামলা চালিয়ে তার দায় ইরানের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
লুকাস ড্রোনের সক্ষমতা
অ্যারিজোনাভিত্তিক কোম্পানি স্পেক্টারওয়ার্কস তৈরি করেছে লুকাস ড্রোন। এর ওজন প্রায় ৮১.৫ কেজি, যা শাহেদ ড্রোনের (প্রায় ২০০ কেজি) তুলনায় অনেক হালকা। ড্রোনটি প্রায় ১৫ হাজার ফুট উচ্চতায় ঘণ্টায় প্রায় ১৯৪ কিলোমিটার গতিতে উড়তে পারে এবং একটানা প্রায় ৬ ঘণ্টা আকাশে থাকতে সক্ষম।
মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর বিশেষ ইউনিট ‘টাস্ক ফোর্স স্করপিয়ন স্ট্রাইক’ এই ড্রোন ব্যবহার করে ইরানের বিরুদ্ধে কামিকাজে হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।
ড্রোন ব্যবসায় ট্রাম্প পরিবার
ড্রোনের কৌশলগত গুরুত্ব বিবেচনায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ‘আনলিশিং আমেরিকান ড্রোন ডমিন্যান্স’ নামে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। এর লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের ড্রোন শিল্পকে বিশ্বের শীর্ষ শক্তিতে পরিণত করা।
এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে ট্রাম্পের দুই ছেলে এরিক ট্রাম্প এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ড্রোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান পাওয়ারাসের সঙ্গে একটি বড় ধরনের একীভূতকরণ প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে ড্রোন উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়ানো হবে।
এদিকে মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী পিট হেগসেথ দাবি করেছেন, ড্রোন প্রযুক্তিতে ইরান ধীরে ধীরে তাদের আধিপত্য হারাচ্ছে এবং আকাশপথ এখন যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ইতিমধ্যে দেশটির বিভিন্ন কোম্পানিকে দ্রুত ৩ লাখ স্বল্পমূল্যের ড্রোন সরবরাহের অনুরোধ জানিয়েছে। এসব ড্রোন ইরানের বিরুদ্ধে চলমান সংঘাতে কতটা কার্যকর হবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


