বাংলাদেশের রাজনীতিতে ধারাবাহিক নির্বাচনি সাফল্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন বিএনপি নেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি আমান উল্লাহ আমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসন থেকে বিজয়ী হয়ে তিনি পঞ্চমবারের মতো জাতীয় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হয়েছেন।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো- তিনি যে পাঁচটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, সবগুলোতেই জয়ী হয়েছেন; জাতীয় নির্বাচনে কখনো পরাজয়ের মুখ দেখেননি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর ভিপি নির্বাচিত হন। ছাত্রনেতা হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর ধীরে ধীরে জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেন।
আমান উল্লাহ আমান ৫ম, ৬ষ্ঠ, ৭ম, ৮ম ও ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন এবং প্রতিটি নির্বাচনেই বিজয়ী হন। সদ্যসমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-২ আসন থেকে তিনি ১ লাখ ৬৩ হাজার ২২০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হয়েছেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল হক পেয়েছেন ৭৮ হাজার ৭০৮ ভোট।
নবম, দশম, একাদশ ও দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আইনি জটিলতা ও মামলার কারণে তিনি অংশ নিতে পারেননি।
যে পাঁচবার নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন, প্রতিবারই বিজয়ী হয়েছেন—যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
১৯৯১ সালের নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) সরকার গঠন করলে আমান প্রথমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০১ সালে পুনরায় দল সরকার গঠন করলে তাকে শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি ২৮ অক্টোবর ২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ধারাবাহিক নির্বাচনি জয়, ছাত্র রাজনীতি থেকে জাতীয় নেতৃত্বে উত্তরণ এবং প্রশাসনিক দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা—সব মিলিয়ে আমান উল্লাহ আমান দেশের রাজনীতিতে একটি স্থিতিশীল ও প্রভাবশালী অবস্থান তৈরি করেছেন।
ডাকসু ভিপি থেকে পাঁচবারের নির্বাচিত এমপি—এই যাত্রাপথ তাকে সমর্থকদের কাছে ‘৫–এ ৫ জয়ী’ নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


