দীর্ঘ ২০ বছর পর জনগণের রায়ে ভূমিধস বিজয়ের পর রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। গতকাল মঙ্গলবার বিকাল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। একই সঙ্গে নতুন মন্ত্রিপরিষদের সদস্য হিসেবে ২৫ জন মন্ত্রী ও ২৪ জন প্রতিমন্ত্রী শপথ গ্রহণ করেছেন। নির্বাচনে বাজিমাত করা তারেক রহমান মন্ত্রিসভায়ও বড় চমক নিয়ে এসেছেন। অভিজ্ঞ ও দক্ষদের পাশাপাশি সর্বোচ্চসংখ্যক নতুন মুখকে তুলে এনেছেন রাষ্ট্র পরিচালনার কাজে। এছাড়া নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেও প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী দলের নেতাদের সঙ্গে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদেরও রেখেছেন মন্ত্রিসভায়। জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে ২৯৬ জন সংসদ সদস্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রীদের এবং প্রতিমন্ত্রীদের শপথ পাঠ করান। প্রথম বার এমপি হয়েই প্রধানমন্ত্রীসহ ৩৩ জন মন্ত্রিসভায় স্থান পেয়েছেন। এর মধ্যে ১০ জন পূর্ণমন্ত্রী এবং ২২ জন প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন। এদিকে মন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচ জন এবং প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদায় পাঁচ জনকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ করেছেন নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
প্রতিরক্ষা ও জনপ্রশাসনসহ ৫ দপ্তর নিজের হাতে সামলাবেন প্রধানমন্ত্রী
মন্ত্রী: নবগঠিত মন্ত্রিসভায় বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন সালাউদ্দিন আহমদ। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেনকে মহিলা ও শিশু, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, ড. খলিলুর রহমানকে (টেকনোক্র্যাট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আব্দুল আওয়াল মিন্টুকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়, মিজানুর রহমান মিনুকে ভূমি মন্ত্রণালয়, নিতাই রায় চৌধুরীকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়, মোহাম্মদ আসাদুজ্জামানকে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদকে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, আরিফুল হক চৌধুরীকে শ্রম ও কর্মসংস্থান, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, জহির উদ্দিন স্বপনকে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানিকে পানি সম্পদ, এহসানুল হক মিলনকে শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়, আমিন উর রশিদকে (টেকনোক্র্যাট) কৃষি মন্ত্রণালয়, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়। আফরোজা খানমকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, আসাদুল হাবীব দুলুকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়, জাকারিয়া তাহেরকে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, দীপেন দেওয়ানকে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়, সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুলকে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়, ফকির মাহবুব আনামকে ডাক ও টেলিযোগাযোগ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং শেখ রবিউল আলমকে সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ ও নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী: প্রতিমন্ত্রীদের মধ্যে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়, অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুত্, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়, শরীফুল আলম বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়, শামা ওবায়েদ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, সুলতান সালাউদ্দিন টুকু কৃষি, মত্স্য ও প্রাণিসম্পদ, খাদ্য মন্ত্রণালয়, ব্যারিস্টার কায়সার কামাল ভূমি মন্ত্রণালয়, ফারহাদ হোসেন আজাদ পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়, আমিনুল হক (টেকনোক্র্যাট) যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন।
কোন বিভাগ থেকে কত জন মন্ত্রী: বিএনপির নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে চট্টগ্রাম বিভাগ ও ঢাকা বিভাগ থেকে সবচেয়ে বেশি মন্ত্রী এবং প্রতিমন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকে সর্বোচ্চ ১২ জনকে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে পূর্ণমন্ত্রী হিসেবে ১০ জন এবং প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দুই জন আছেন। আর ঢাকা বিভাগ থেকে ১০ জনকে মন্ত্রিপরিষদে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অপরদিকে, মন্ত্রিসভায় সবচেয়ে কম দুই জনকে নেওয়া হয়েছে সিলেট বিভাগ থেকে। রাজশাহী বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন দুই জন এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন চার জন। বরিশাল বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন দুই জন এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন দুই জন। খুলনা বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন এক জন এবং প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন তিন জন। ময়মনসিংহ বিভাগে কোনো মন্ত্রী না থাকলেও এ বিভাগ থেকে থেকে পাঁচ জনকে প্রতিমন্ত্রী করা হয়েছে। রংপুর বিভাগ থেকে মন্ত্রী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ তিন জন এবং প্রতিমন্ত্রী এক জন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


