আন্তর্জাতিক ডেস্ক : কাশ্মীর নিয়ে মোদি সরকারের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মূলে যে ব্যক্তিটি রয়েছেন, তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল। গত জুলাইয়ের শেষে কাশ্মীরে তার দুই দিনের সফরের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৩৭০ ধারা বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ।

Advertisement
নরেন্দ্র মোদির ডান হাতখ্যাত অজিত দোভাল কাশ্মীরে দুই দিনের সফর শেষ করে আসার পরই নতুন করে সেনা মোতায়েনের এ ঘোষণা দেয় কেন্দ্র সরকার। এরপর থেকে কয়েক দফায় সেনা মোতায়েন করা হয় উপত্যকাটিতে।

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিলের পরও উদ্ভূত পরিস্থিতি দেখতে কাশ্মীর গিয়েছেন তিনি।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি অজিত দোভালকে তার নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। এ পদটি প্রতিরক্ষা ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হয়। পদাধিকার বলে চিরশত্রু পাকিস্তানের সঙ্গে তাকেই কথা বলতে হয়, অস্ত্রাগারগুলো পরিদর্শনসহ বিভিন্ন বিষয়ে কৌশলগত সক্ষমতা, জঙ্গি হামলার পর তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা ও দেশের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ কূটনীতিকদের সঙ্গেও নিয়মিত আলোচনা করেন তিনি।

গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু-কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন তিনি।

কিন্তু কে এই অজিত দোভাল? জেমস বন্ড হিসেবে পরিচিত হওয়ার ক্ষেত্রে তার বিশেষ একটি কীর্তি সব সময় আলোচনায় ওঠে আসে।

আসুন জেনে নিই অজিত দোভালের অজানা সেই কীর্তির কথা।

১৯৮৪ সালে জুনের প্রথম সপ্তাহ (৩-৮ জুন)। আজ থেকে ঠিক ৩৪ বছর আগে অমৃতসরের (পাঞ্জাব) স্বর্ণমন্দিরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর নির্দেশে অপারেশন ব্লু স্টার পরিচালনা করেছিল ভারতীয় সেনারা। ওই অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল, হরমন্দির সাহিব কমপ্লেক্সকে খালিস্তান সমর্থক জার্নেইল সিং ভিন্দ্রানওয়ালে এবং তার সমর্থকদের হাত থেকে মুক্ত করা।

জানা যায়, অপারেশন ব্লু স্টারের জন্য একটি কক্ষে সেনা কর্মকর্তাদের মধ্যে বৈঠক চলছিল। তার মধ্যেই এক রিকশাওয়ালা সেই ঘরে প্রবেশ করে এবং জঙ্গিদের গতিবিধি ও তাদের বিষয়ে সংগ্রহ করা তথ্য জানায়৷ আর এই রিকশাওয়ালাই হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ডানহাত এবং বর্তমানে ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল।

১৯৮৮ সালে খালিস্তানি জঙ্গিদের হাত থেকে পাঞ্জাবের স্বর্ণমন্দির রক্ষা করার পিছনে যার সব থেকে বড় অবদান ছিল।

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীদের হাত থেকে স্বর্ণমন্দির রক্ষা করতে অজিত দোভাল তখন এক অভিনবপন্থা বেছে নিয়েছিলেন। স্বর্ণমন্দিরে যখন দখল নিয়েছে জঙ্গিরা সেই সময় ওই মন্দির সংলগ্ন এলাকায় রিকশাওয়ালা সেজে হাজির হন তিনি। খালিস্তানি জঙ্গিদের কাছে নিজেকে পাক গুপ্তচর সংস্থা আইএসআই-এর এজেন্ট বলে পরিচয় দিয়েছিলেন অজিত।

ভারতীয় সেনাদের অভিযানের দিন কয়েক আগে খালিস্তানি জঙ্গিদের প্রভাবিত করে সেই রিকশাওয়ালা ঢুকেছিল মন্দিরের ভিতরে। পাক গুপ্তচর হওয়ায় খালিস্তানি জঙ্গিরা তাকে মন্দিরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে দেখিয়েছিলেন সার্বিক পরিস্থিতি। সেই রিকশাওয়ালার থেকে মন্দিরের ভেতরে জঙ্গিদের অবস্থান এবং গতিবিধি সম্পর্কে অবগত হয় ভারতীয় সেনা। এবং খালিস্তানি জঙ্গিদের হটিয়ে স্বর্ণমন্দিরের দখল নেয় ভারতীয় সেনাবাহিনী।

তার কীর্তি, তার সাহসিকতার জন্যই অজিত দোভালকে হলিউডের জনপ্রিয় চরিত্র জেমস্ বন্ডের মতোই ভারতের জেমস্ বন্ড মনে করা হয়৷ বর্তমানে তিনি ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা৷ তাকে প্রধানমন্ত্রীর ডানহাত বলেও মনে করা হয়৷

সেই অভিযানের একজন সদস্য ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা করন খার্ব। তিনি বলেন, মন্দিরে ঢোকার জন্য দোভাল একজন রিকশাচালকের ছদ্মবেশ নিয়েছিল। দোভাল ভেতরে গিয়ে বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের বোঝাতে সক্ষম হন যে, তিনি পাকিস্তান থেকে এসেছেন এবং ‘খালিস্তান’নামে শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদীরা যে নতুন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, তাতে তিনি তাদের সহায়তা করতে চান।

পুলিশ প্রথমে ভেবেছিল মন্দিরের ভেতরে আনুমানিক ৪০ জনের মতো সন্ত্রাসী আছে। কিন্তু দোভালই প্রথম জানান যে, ভেতরে অন্তত ২০০ সন্ত্রাসী প্রস্তুতি নিয়ে আছে। বাইরে থেকে যা বোঝা ছিল একেবারেই অসম্ভব। সরকার সন্ত্রাসীদের হটাতে সেনা অভিযানের পরিকল্পনা করেছিল। কিন্তু দোভাল ভেতরের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে সরকারকে এমন পদক্ষেপ নিতে বারণ করেন।

করন খার্ব বলেন, দোভালের পরামর্শেই সরকার প্রচণ্ড গরমের মধ্যেই মন্দিরের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়। পরে নয় দিনের মাথায় সন্ত্রাসীরা আত্মসমর্পণ করে।

ভারতের কোনো সরকারি দফতরের ওয়েবসাইটেই দোভালের প্রোফাইল নেই। ২০১৫ সালে মুম্বাইতে দেয়া তার এক বক্তৃতার আগে তাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সময় বলা হয়েছিল, তার জন্ম ১৯৪৫ সালে, উত্তরাখন্ডে। ১৯৬৭ সালের পুলিশে যোগ দেয়ার আগে তিনি ইউনিভার্সিটি অব আগ্রা থেকে ইকোনোমিকসে মার্স্টার্স ডিগ্রি নিয়েছেন।

১৯৬৮ সালে আইপিএস অফিসার হিসেবে যোগ দেয়ার পর ১৯৭২ সালে দোভাল গোয়েন্দা বিভাগে যোগ দেন। গোয়েন্দা হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং যুক্তরাজ্যে তিন দশকের মতো সময় কাজ করেছেন।

তার জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি বিষয় হল, তিনি তার চাকরি জীবনে মাত্র সাত বছরই ইউনিফর্ম পরেছিলেন, কারণ তাকে বিভিন্ন মিশনের জন্য বেশিরভাগ সময়ই দেশের বাইরে থাকতে হতো, যা অত্যন্ত গোপনীয়ও ছিল৷

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google