কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী পৌর এলাকায় এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর শোক প্রকাশের বদলে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে বিদায় জানানোর ঘটনায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রয়াত ব্যক্তির ছেলে বাবার শেষ ইচ্ছা পূরণের কথা বলে এই কাণ্ড ঘটালেও, স্থানীয়দের তীব্র ক্ষোভের মুখে শেষ পর্যন্ত তিনি প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হন।

রবিবার (৭ জুন) কটিয়াদী পৌর এলাকায় এই বিরল ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রোববার কটিয়াদী পৌর এলাকার বাসিন্দা শামসুদ্দিন মৃত্যুবরণ করেন। পরিবারের সদস্যরা যখন তাঁর দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই তাঁর ছোট ছেলে ও পেশায় কাঠমিস্ত্রি খাইরুল ইসলাম মরদেহের গোসলের আগে বাড়িতে ঢোল-বাঁশি বাজিয়ে এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন। এই খবর দ্রুত পুরো এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে উৎসুক জনতা ও প্রতিবেশীরা ওই বাড়িতে ভিড় জমাতে শুরু করেন।
বাবার মৃত্যুর পর ছেলের এমন আচরণে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্থানীয়রা। এই ঘটনাকে সম্পূর্ণ সামাজিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে আখ্যা দেন উপস্থিত জনতা। পরিস্থিতি একপর্যায়ে এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী মরহুমের জানাজায় অংশ নিতেও অস্বীকৃতি জানান।
উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতি সামাল দিতে এগিয়ে আসেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তি এবং আলেম সমাজ। তাদের হস্তক্ষেপে খাইরুল ইসলাম সবার সামনে নিজের কর্মকাণ্ডের জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন এবং ক্ষমা চান। নিজের কাজের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে খাইরুল ইসলাম জানান, তাঁর বাবার জীবদ্দশায় বলে গিয়েছিলেন মৃত্যুর পর যেন অতিরিক্ত শোক পালন না করে আনন্দের সঙ্গে তাঁকে বিদায় দেওয়া হয়। বাবার সেই শেষ ইচ্ছা পূরণ করতেই তিনি এমনটা করেছিলেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তাঁর আচরণে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী।
আরও পড়ুনঃ
এ প্রসঙ্গে স্থানীয় মসজিদের ইমাম মাওলানা তফাজ্জল হক রাশেদীন জানান, ইসলাম ধর্মে মৃত্যুর সময় ধৈর্য ধারণ করে মরহুমের জন্য কেবল ক্ষমা প্রার্থনা করার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এই অভিনব ঘটনা মানুষের মধ্যে যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি করেছিল, তা পরিবারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শান্ত করা সম্ভব হয়েছে। খাইরুল ইসলামের প্রকাশ্যে ক্ষমা প্রার্থনার পর আলেমদের সার্বিক সহযোগিতায় মরহুম শামসুদ্দিনের জানাজা সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠিত হয় এবং কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সূত্র: ডিবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



