
১৯৬৩ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে চীন যে তামাশা করে, তা ওই সময় আমোদজনক ছিল। বালতিস্তান/লাদাখ অঞ্চলে পাকিস্তান তার দখলকৃত জমির ৫ হাজার ১৮০ কিলোমিটার (২ হাজার ৫০ বর্গমাইল) চীনকে ছেড়ে দেয়। বিনিময়ে পাকিস্তানকে চীন দিয়েছিল খনিজ সম্পদপূর্ণ অপারং উপত্যকা এবং দরবান্দ-দরোয়াজা এলাকার ৭৫০ বর্গমাইল জমি। তবু পাকিস্তানের নেতারা বলেন, তারা চীনকে কোনো ছাড় দেননি। শুধু তা-ই নয়, ওই নেতারা ৭৫০ বর্গমাইল জমি পাকিস্তানকে দিয়ে দেওয়ার ঔদার্যের জন্য চীনা প্রধানমন্ত্রী চৌ-এন লাইয়ের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। নিবন্ধে বলা হয়, পাকিস্তানের ওই ভূমি প্রত্যর্পণের পরিণামে প্রথমবারের মতো কুনলুন পর্বতমালা থেকে শুরু করে কারাকোরাম পর্যন্ত চীনের সীমান্ত বিস্তার ঘটে এবং এরই কারণে এশিয়ায় চীনা সীমান্ত কৌশল নিন্দা অর্জন করতে থাকে। এমনকি জম্মু ও কাশ্মীরের জমি তড়িঘড়ি চীনকে দিয়ে দেওয়ার কারণে পাকিস্তানও এখন আফসোস করে।
ইন্ডিয়া টুডে বলছে, বেইজিংয়ের সমস্যা হচ্ছে, তার সীমান্ত চাতুরীর ব্যাপারটি ভারতের ওপর খাটাতে পারছে না। ২০০৫ সালের খসড়া চুক্তির মাধ্যমে ভারত থেকে তাৎপর্যময় ছাড় হাতিয়ে নিতে না পেরে চীন আশ্রয় নিয়েছে সহিংস সামরিক কৌশলের।
২০১৩ সালে গণমুক্তি বাহিনী দেপসাং-এর ১৯ কিলোমিটার ভিতরে অনুপ্রবেশ করে। সীমান্ত প্রশ্নে সুবিধা দ্রুত আদায় করে নেওয়ার মতলবেই এটা করা।
সম্প্রতি লাদাখে চীন যা করল তারও লক্ষ্য হচ্ছে আকসাই চীন এলাকার স্থিতাবস্থা বিনষ্ট করে লাদাখে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলএসি) বরাবর সীমান্ত স্বীকার করে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করিয়ে নেওয়া। এটা হয়ে গেলে চীনকে কিছুই হারাতে হবে না। চীন ধরে নিয়েছে, ভারত মেনে নেবে যে, আকসাই চীন যেমন আছে তেমনই থাকবে চিরকাল। চীনের বিরাট গলদ এটাই।
চীনের কামনা পূরণ করতে গিয়ে আকসাই চীন অঞ্চলে ৩৮ হাজার বর্গকিলোমিটার ভূখন্ডের ওপর দাবি ভারত ছেড়ে দেবে? মহাবলিপুরমে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুই দেশের মধ্যে আস্থা গড়ে তোলার যে অঙ্গীকার করেছিলেন, তা পরিত্যাগ করবার বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা বিশ্বের শান্তিকামী মানুষ কখনো সমর্থন করবে না।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



