দেশে পেঁয়াজ উৎপাদনের অন্যতম শীর্ষ জেলা রাজবাড়ীতে এবার পেঁয়াজ চাষীরা চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন। বাম্পার ফলন হলেও নিম্নমানের বীজ আর পচনশীলতার কারণে ঘরে রাখা পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। কৃষি বিভাগ বলছে, অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং সংরক্ষণ অযোগ্য জাত আবাদের কারণেই এই বিপর্যয়।

পেঁয়াজ উৎপাদনে দেশের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রাজবাড়ী জেলা। এবার জেলায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও ৩ হাজার হেক্টর বেশি জমিতে পেঁয়াজের আবাদ হয়েছে। বর্তমানে স্থানীয় চাষিদের ঘরে সংরক্ষিত আছে প্রায় সাড়ে তিন লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। কিন্তু ফলন বেশি হলেও কৃষকের মুখে হাসি নেই। ঘরে রাখা পেঁয়াজে মড়ক ধরায় দিশেহারা তারা।
চাষিদের অভিযোগ—অধিক লাভের আশায় তারা যে উচ্চ ফলনশীল বা হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছিলেন, তা ছিল নিম্নমানের। এই পেঁয়াজ বেশিদিন টিকছে না। আধুনিক ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিনে রেখেও শেষ রক্ষা হচ্ছে না, দ্রুতই পচন ধরছে। অথচ যারা দেশি জাতের পেঁয়াজ আবাদ করেছেন, তাদের পেঁয়াজ মেশিনে দীর্ঘদিন ভালো থাকছে।
কৃষি বিভাগও চাষিদের এই অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা বলছে, হাইব্রিড জাতের এই পেঁয়াজ মূলত মাঠ থেকে তুলেই বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার নিয়ম, এটি সংরক্ষণের উপযোগী নয়। তার ওপর এ বছর অসময়ের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এই পচনকে আরও ত্বরান্বিত করেছে।
অবশ্য পেঁয়াজ সংরক্ষণ ব্যবস্থার উন্নয়নে এ বছর জেলার বিভিন্ন এলাকায় ১ হাজার ৬৫০টি ‘এয়ার ফ্লো’ মেশিন বিতরণ করেছে কৃষি বিভাগ। এছাড়া খরচ কমাতে সোলার প্যানেলের সাহায্যে এই মেশিনগুলো চালানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানান জেলা কৃষি কর্মকর্তা।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য রুখতে ও লোকসান কমাতে সরাসরি সরকারের পক্ষ থেকে পেঁয়াজ কেনার দাবি স্থানীয় চাষিদের। সঠিক বাজারজাতকরণ ও ভালো মানের বীজ নিশ্চিত করা না গেলে, আগামীতে পেঁয়াজ চাষে আগ্রহ হারাবেন রাজবাড়ীর কৃষকেরা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



