ছবি সংগৃহীত
Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক : করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে প্রান্তিক চাষিরা সবজি নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। প্রচুর সবজি আবাদ হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম পাচ্ছেন না তারা। করোনার প্রভাবে এক প্রকার পানির দরেই পাইকারদের কাছে সবজি বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন চাষিরা। চাষিদের উৎপাদন খরচ তোলাই যেন দায় হয়ে উঠেছে। এ অবস্থায় চাষিদের লোকসান কিছুটা হলেও লাঘব করতে এগিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী। সেনা সদস্যরা মাঠে মাঠে গিয়ে চাষিদের কাছ থেকে সবজি কিনছেন।

তবে প্রান্তিক চাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও লাভবান হচ্ছেন পাইকাররা। কুষ্টিয়া সদর উপজেলার অন্তর্গত বিত্তিপাড়া, লক্ষ্মীপুর ও শেখপাড়া পাইকারি সবজি বাজারে ঢাকা থেকে আসেন ব্যাপারীরা। তারা হাজার হাজার মণ বেগুন, শসা, কাঁচা মরিচসহ অন্যান্য সবজি কিনে নিয়ে যান ঢাকার পাইকারি মোকামে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়ার পাইকারি এসব সবজি বাজারে প্রতিদিন দুইশ থেকে আড়াইশ মণ বেগুন আসে। স্থানীয় আড়তদার ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এ সবজির একটি অংশ ক্রয় করে থাকেন। তবে উৎপাদিত এসব সবজির সিংহভাগই চলে যায় ঢাকার কারওয়ান বাজারে।

কুষ্টিয়ায় পাইকারি বাজারে সর্বোচ্চ ২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি বেগুন। অথচ সেই একই বেগুন জেলার বিভিন্ন বাজারে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা দরে। এখন বাজারে প্রচুর নতুন বেগুনও উঠেছে। পাইকারি বাজারে লম্বা জাতের এই নতুন বেগুন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি হলেও শহরের বাজারে তা বিক্রি হচ্ছে ৫৫ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি। ফলে হাত বদল হতে হতে পাইকার ও মধ্যসত্বভোগীরা লাভবান হলেও প্রান্তিক চাষিরা দেখছেন না লাভের মুখ। করেনার প্রভাবের আগে চাষিরা বেগুনের দাম পেয়েছেন কেজি প্রতি ৩০ টাকা। এখন বাজারদর অনেকটা মন্দা।

এদিকে পাইকারি এসব বাজারে শসা প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে সর্বোচ্চ ২০-২৫ টাকা দরে। করোনা প্রভাবের আগে শসার পাইকারি দর ছিল প্রতি কেজি ৩০ টাকা। বর্তমানে শহরের বাজারগুলোতে প্রতি কেজি শসা ৩৫-৪০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া মরিচের দাম আগের তুলনায় একেবারে কমে গেছে। খুচরা বাজারে ৬০ টাকা কেজি দরের কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ২৫-৩০ টাকা দরে। কাঁচা মরিচের পাইকারি বাজার দর আরও কম।

এদিকে চাষিদের লোকসান কিছুটা লাঘব করতে এগিয়ে এসেছে সেনাবাহিনী। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর যশোর সেনানিবাসের ২০ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমন্টের সেনা সদস্যরা জেলার বিভিন্ন এলাকার প্রান্তিক সবজি চাষিদের জমিতে থাকা সবজি বাজার মূল্যে কিনে নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় অস্বচ্ছল পরিবারের মাঝে তা বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৭ মে) থেকে এ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জেলার মিরপুর উপজেলার চিথলিয়া ইউনিয়নের চিথলিয়া গ্রামের সবজি চাষী আলহাজ শুর আলী বলেন, ঠিকমত মূল্য না পাওয়ায় আমাদের অনেক সবজি জমিতেই নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। এখন সেনাবাহিনী ন্যায্য মূল্যে সবজি কিনে নেয়াতে নগদ টাকা হাতে পেয়েছি।

একই গ্রামের সবজি চাষী সাদেমুল বলেন, আমার জমিতে আবাদকৃত কুমড়া বিক্রি করতে না পারায় দুশ্চিন্তায় ছিলাম। এখন সেনাবাহিনী নগদ অর্থে কুমড়া কিনে নেয়ায় আমি উপকৃত হয়েছি। সেনাবাহিনীর এই কার্যক্রম সব সময় চালু থাকলে কৃষকরা দারুণভাবে উপকৃত হবে।

এই কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পৃক্ত সেনা কর্মকর্তা মেজর ওয়াহিদ জানান, করোনার কারণে বাজারে চাষিরা তাদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে যেতে পারছেন না। তাছাড়া বাজারে ক্রেতা কম থাকায় সবজির উপযুক্ত দামও পাচ্ছেন না। মাঠেই সবজি নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে। এ অবস্থায় জেলার প্রান্তিক চাষিদের কাছ থেকে নায্য মূল্যে শাক-সবজি ক্রয় কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এই সবজি ক্রয় করে যশোর সেনানাবিাসে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। সেখানে সেনা সদস্যেদের জন্য ব্যবহার এবং বিভিন্ন স্থানে অস্বচ্ছল মানুষদের মাঝে তা বিতরণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Sabina Sami is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.