যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, চুক্তিতে রাজি না হওয়া পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আরোপিত বন্দর অবরোধ তুলে নেবে না। তিনি দাবি করেন, এই অবরোধ ইরানের অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে।

সোমবার (২১ এপ্রিল) ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে আরও বলেন, ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলার ক্ষতির মুখে পড়ছে, যা দেশটির জন্য অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করছে।
ট্রাম্পের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে যখন বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি শেষ হতে চলেছে, কিন্তু পাকিস্তানে দ্বিতীয় দফা শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে কিনা, তা নিয়ে কোনো নিশ্চয়তা নেই।
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের সঙ্গে ফোনালাপে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ‘যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন’ কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি জানান, ইরান পরিস্থিতির সব দিক বিবেচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।
কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, ইরান আলোচনায় আগ্রহী হলেও তারা দুর্বল অবস্থান থেকে কোনো সমঝোতায় যেতে চায় না। অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে সম্ভাব্য উত্তেজনা দুই পক্ষের জন্যই বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের জাহাজে মার্কিন হামলার প্রতিশোধ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে ইরান। তারা প্রণালিতে তাদের শাসন রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। কিন্তু কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক ব্যবস্থা দেখা যাচ্ছে না। এর কারণ হলো সেনাবাহিনী বলছে,পতাকাবাহী জাহাজগুলোতে অনেক পরিবার ও বেসামরিক নাগরিক রয়েছেন।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ গালিবফ বলেছেন, দেশটি কোনোভাবেই ‘হুমকির’ পরিবেশে আলোচনা করবে না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি ট্রাম্পের নীতিকে লক্ষ্য করে তীব্র সমালোচনা করেন।
গালিবাফ অভিযোগ করেন, ট্রাম্প অবরোধ আরোপ এবং যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের মাধ্যমে আলোচনার টেবিলকে চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে ‘আত্মসমর্পণের টেবিলে’ পরিণত করতে চাইছেন।
তিনি বলেন, আমরা হুমকির ছায়ায় আলোচনা গ্রহণ করি না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, গত দুই সপ্তাহে যুদ্ধক্ষেত্রে নতুন কৌশল ও সক্ষমতা উন্মোচনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সূত্র : আল জাজিরা
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


