আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ১০ সেপ্টেম্বর শনিবার বিহারের সিওয়ান জেলায় একটি মহাবীর আখড়া মিছিল চলাকালীন সাম্প্রদায়িক সহিংসতার জের ধরে দাদার সাথে আট বছর বয়সী রিজওয়ান কুরেশিকে গ্রেফতার করা হয়, প্রায় চার দিন আটকে থাকার পরে বুধবার জামিন দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়। রিজওয়ান এবং তার ৭০ বছর বয়সী দাদা, মোহাম্মদ ইয়াসিনসহ আরো অনেককে পুলিশ হেফাজতে নিয়েছিল, যদিও তারা উভয়েই নির্দোষ। ইয়াসিন সম্প্রতি দুটি অস্ত্রোপচার করেছেন এবং তিনি অন্যান্য স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছিলেন বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

Advertisement

তাদের পরিবারের মতে, তাদের সহিংসতার প্ররোচনার জন্য মামলা করা হয় এবং তাদের হেফাজতে রাখা হয়েছিল। রিজওয়ানের ভাই আজহার মকতুব মিডিয়াকে বলেন, ‘আমার ছোট ভাইকে একটি প্রাইভেট ওয়ার্ডে রাখা হয় এবং আমার পরিবারকে প্রথমে তার সাথে দেখা করতে দেওয়া হয়নি। আমার মা তাকে হাতকড়া পরা দেখে ভয় পেয়ে যান। সে এতটাই আতঙ্কিত ছিল যে, সে তার নিজের মাকে চিনতে পারছিল না। শিশুটি কেবল বাড়িতে ফিরে যাওয়ার জন্য কাঁদছিল।
প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, তাদেরকে কোমরে দড়ি বেঁধে আদালতে হাজির করা হয়। রিজওয়ানের পরিবার শিশুটির জন্মনিবন্ধন সনদ উপস্থাপন করলেও পুলিশ কর্মকর্তারা তার মুক্তির জন্য টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। বেশ কয়েকটি মিডিয়ার রিপোর্ট অনুসারে, সিওয়ান পুলিশ এ ঘটনার সাথে জড়িত ৩৫ জনের বিরুদ্ধে একটি প্রথম তথ্য প্রতিবেদন (এফআইআর) দায়ের করেছে, যার মধ্যে ২৫ জন মুসলিম এবং ১০ জন হিন্দু রয়েছে এবং ইতোমধ্যে এদের মধ্যে ২০ জনকে আটক করেছে। দ্য ওয়্যার ভারতীয় দণ্ডবিধির ১৪৭ (দাঙ্গা), ১৪৮ (একটি মারাত্মক অস্ত্র দিয়ে দাঙ্গা), ১৪৯ (বেআইনি সমাবেশ), ১৮৮ (আদেশ অমান্য), ৩৩৮ (গুরুতর আঘাত করা), ৪৩৫ (ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে দুষ্টুমি করা), ৪২৭ (পদার্থ দিয়ে দুষ্টতা), ৫০৫ (শান্তি ভঙ্গের উদ্দেশ্যে ইচ্ছাকৃত অপমান), ৩০৭ (অপরাধী ষড়যন্ত্রের পক্ষপাত), ২৯৬ (ধর্মীয় সমাবেশে বিরক্ত করা), ৩৩৭ (আঘাত সৃষ্টি করা) এর অধীনে এফআইআর পেয়েছে।

দ্য ওয়্যারের সাথে কথা বলার সময় একজন বাসিন্দা বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার আসরের নামাজের সময় একটি মহাবীর আখড়ার র‌্যালি মসজিদের পাশ দিয়ে যায়। লোকজন লাঠিসোঁটা নিয়ে সাম্প্রদায়িক স্লোগান দিচ্ছিল। আশপাশের কয়েকটি দোকান লাঠি দিয়ে ভাঙচুর করা হয় এবং মসজিদের ক্ষেত্রেও একই ঘটনা ঘটে। এরপর উভয় পক্ষ থেকে পাথর ছোড়াছুড়ি শুরু হয়’।

তিনি আরো বলেন, ‘মূলত এটি একটি প্রশাসনিক ব্যর্থতা। এলাকাটি সবসময়ই স্পর্শকাতর ছিল। মহাবীর আখড়া চার দিন আগেও একটি সমাবেশ করেছিল, তবে সে সময় পুলিশ উপস্থিত ছিল, তাই এরকম কিছুই হয়নি। অধিকন্তু, এলাকাটি ‘সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল’ হওয়ায় এ অঞ্চলের কিছু মুসলমানও পুলিশকে নিরাপত্তা জোরদার করতে বলে। তবুও মাত্র দুইজন চৌকিদার ও একজন জুনিয়র পুলিশ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে।

এফআইআর-এর অভিযোগকারী ম্যাজিস্ট্রেট প্রেমচাঁদ বলেন, ‘আমাকে এক দিনের জন্য এ অঞ্চলের দণ্ড কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) করা হয়েছিল, তাই আমি অভিযোগ দায়ের করেছি। মসজিদের সামনে এবং মসজিদ থেকে আখড়া এলাকায় (পুরানী বাজার এলাকায়) পৌঁছালে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। এরপর সংঘর্ষ বেধে গেলে প্রশাসন পরিস্থিতি সামাল দেয়। পাথর ছোঁড়ার সময় একটি দোকানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে’। সূত্র : সিয়াসাত ডেইলি।

বিমানের কবরস্থান! অগুণতি প্লেন শুয়ে আছে লাইন দিয়ে

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.