অভিনেতা জাহের আলভীর স্ত্রী আফরা ইবনাত খান ইকরার ‘আত্মহত্যা’ ঘিরে নতুন করে আলোচনায় এসেছে তার একটি ভিডিও বার্তা। দাম্পত্য কলহের জেরে ইকরার মৃত্যুর পর তার পরিবার রাজধানীর পল্লবী থানায় আলভীর বিরুদ্ধে মামলা করে। জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হলেও শেষবারের মতো স্ত্রীর মুখ দেখতে উপস্থিত হননি আলভী—এ নিয়েই জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়।

সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শেয়ার করা এক ভিডিও বার্তায় নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি।
জাহের আলভী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে অনেকের মনে অনেক প্রশ্ন। এই ভিডিওতে আমি সব কিছু ক্লিয়ার করব। শেষ প্রশ্ন থেকেই আসি। দেখলাম অনেকেই বলছেন, যে মানুষটা তার ভালোবাসার প্রমাণ দিতে গিয়ে আত্মহত্যা করল, একটাবারও শেষ দেখা দেখতে এলাম না কেন?’
তিনি ভিডিও বার্তায় বলেন, ‘আপনারা কি আমার দেশে ফেরার অবস্থা রেখেছেন? আমি দেশে আসা মাত্রই মব সৃষ্টি করা হবে, আমাকে টেনে ছিঁড়ে ফেলা হবে।
আমার ফোনে এত এত থ্রেটস, আপনাদের বলে বোঝাতে পারব না। আমার কাছে ইনফরমেশন আছে, এয়ারপোর্টে লোক ফিট করা আছে, আমি এয়ারপোর্টে যাওয়া মাত্রই তারা আমাকে হিট করবে, তারা আমাকে মেরে ফেলবে।’
স্ত্রীর শেষ দেখা না পাওয়ার প্রসঙ্গে আলভীর বক্তব্য, ‘আমার ইকরার মুখটা আপনারা আমাকে দেখতে দেননি, ইকরার পরিবার আমাকে দেখতে দেয়নি।’
নেপাল থেকে দেশে ফেরার বিষয়ে ওঠা প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘অনেকেই অনেক প্রশ্ন করতেছেন যে নেপাল থেকে আসতে কতক্ষণ লাগে? নেপাল কি মঙ্গলগ্রহে নাকি? আমি নেপালে এসেছি ১৮ বার, আমি জানি কতক্ষণ লাগে।
যেদিনের ঘটনা সেদিন এমন কোনো চেষ্টা বাদ রাখিনি দেশে আসার। ডিরেক্ট ফ্লাইট ছিল না, একটা ট্রানজিট ফ্লাইট ছিল, কিন্তু ওইটাতে এলে পরের দিন আসতে হতো। অনেকভাবে চেষ্টা করেছি কোনোভাবে বাংলাদেশে ঢোকার, কিন্তু কোনোভাবেই ওই দিন আমি টিকিট ম্যানেজ করতে পারিনি। তার পরদিন আমি ইমিগ্রেশন ক্রস করি, এরপর জানতে পারি এয়ারপোর্টে ঢোকা মাত্রই আমার ওপর অ্যাটাক হবে, আমাকে হিট করা হবে। ওই অবস্থায় তো আমি ঢুকব না।
এটাই ছিল কারণ।’
ইকরার সঙ্গে তার সম্পর্কটা শুরু থেকেই টক্সিক ছিল বলে উল্লেখ করেন আলভী। তিনি বলেন, ‘ইকরা আমাদের সম্পর্কের শুরু থেকেই অনেক সন্দেহপ্রবণ ছিল, যার কারণে আমাদের সম্পর্কটা শুরু থেকেই টক্সিক ছিল। অনেক আগে থেকেই তিথির সঙ্গে পরিচয় হওয়ারও আগে থেকে। ইকরা অনেক আগে থেকেই আমার কাছে ডিভোর্স চাইত, কিন্তু আমি এটা চাইনি।’
এরপর আলভী আরো বলেন, ‘ইকরার কিছু বদ-অভ্যাস ছিল। ইকরা ট্রিগারড হয়েছে তবে আমার কারণে না। আমার কিছু ভাই ব্রাদারের কারণে যারা ওর আর আমার দুজনেরই কমন সার্কেল। ওরা দিনের পর দিন ট্রিগার করে ইকরাকে এই জায়গায় নিয়ে আসছে। আমি ইকরাকে আত্মহত্যা করতে ট্রিগার করিনি, সে ট্রিগারড হয়েছে।’
ফেসবুক আইডি উধাও, মুছে ফেলা হচ্ছে চ্যাট! প্রমাণ লোপাটের চেষ্টায় কে?
প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি মিরপুর ডিওএইচএসে নিজ বাসায় গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন ইকরা। ময়নাতদন্ত শেষে রবিবার ময়মনসিংহের ভালুকায় গ্রামের বাড়ির পারিবারিক কবরস্থানে বাদ আসর তার লাশ দাফন করা হয়।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


