আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিধানসভা নির্বাচনে নিজ দল বিজেপির ভরাডুবির পর পদত্যাগ করেছেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর দাস। তার আসন জামসেদপুর পূর্ব কেন্দ্রে তিনি নিজেও পরাজিত হয়েছেন।
বিজেপিকে সরিয়ে ক্ষমতায় বসতে যাচ্ছে কংগ্রেস, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ও রাষ্ট্রীয় জনতা দলের (আরজেডি) জোট। আর নতুন মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন জেএমএমের অনন্ত সোরেন।
নির্বাচন কমিশনের সূত্র দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবর, সোমবার রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত কংগ্রেস জোট ৪৭টি আসনে জয়ী হয়েছে। ৮১ আসনের বিধানসভার ঝাড়খণ্ডের সরকার গড়তে প্রয়োজন ৪১ আসন।
আর বিজেপি ২৫টি আসনে জয়ী হয়েছে ।
জোট শরিকদের মধ্যে কংগ্রেস ১৬, ঝাড়খণ্ড মুক্তি মোর্চা (জেএমএম) ৩০ এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) ১টি আসনে জয় পেয়েছে।
অন্যান্য দলের মধ্যে অল ঝাড়খণ্ড স্টুডেন্টস ইউনিয়ন (আজসু) ২, ঝাড়খণ্ড বিকাশ মোর্চা (জেভিএম) ৩ ও অন্যান্য ৪টি আসেন জয়লাভ করেছে।
আজ সকালে ভোট গণনার শুরুতে দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই দেখা গেছে। কিন্তু, বেলা যত গড়াতে থাকে ততই ভোটের ফলাফল কংগ্রেস জোটের দিকে ঝুঁকে পড়তে থাকে।
ঝাড়খণ্ডের বিধানসভা নির্বাচন নিয়ে বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর বেশির ভাগই এবার বিজেপির থেকে কংগ্রেস-জেএমএম-আরজেডি জোটকেই এগিয়ে রেখেছিল। রাজ্যের একক গরিষ্ঠ দল হওয়ার পথে হেমন্ত সোরেনের জেএমএম।
জোটের বিজয়ে মুখ্যমন্ত্রীর চেয়ারে বসতে চলেছেন শিবু সোরেনের ছেলে হেমন্ত সোরেন। জয়ের পর রাজ্যবাসীকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি জোটসঙ্গীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা ব্যক্ত করেছেন।
ফলাফল স্পষ্ট হতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে জোট শিবিরের উল্লাসের ছবি দেখা গেছে। কোথাও জেএমএম ও কংগ্রেস কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিষ্টিমুখ শুরু হয়ে যায়। আবার কোথাও বাজি পোড়াতে শুরু করেন তারা।
এই আবহে রাজ্যপাল দৌপদী মুর্মুর সঙ্গে দেখা করে তার পদত্যাগপত্র জমা দেন মুখ্যমন্ত্রী রঘুবর। পরে তিনি জানান, নতুন সরকার গঠন না হওয়া পর্যন্ত তাকে কেয়ারটেকার মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে থাকতে বলেছেন রাজ্যপাল।
হেমন্ত সোরেনকে অভিনন্দন জানিয়ে রঘুবর বলেন, ‘আশা করি, নতুন সরকার উন্নয়নের কাজ এগিয়ে নিয়ে যাবে।’ নিজ দলের হারের পর্যালোচনা করা হবে বলে জানান তিনি।
এর আগে বিকালে রঘুবর দাস পরাজয় স্বীকার করে এ জন্য গেরুয়া শিবিরকে দায়ী করেন। তার অভিযোগ, বিজেপির দম্ভ, অর্জুন মুন্ডার মতো আদিবাসীদের একঘরে করার কারণে নির্বাচনে বিরূপ প্রভাব পড়েছে।
নির্বাচনে ফলাফল ঘোষণার পর পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এক টুইট বার্তায় নতুন মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনকে অভিনন্দন জানান। এই নির্বাচনের ফলাফল নাগরিকত্ব বিল ও নাগরিক পঞ্জির বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
দেশটির পার্লামেন্টে বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের পর বিক্ষোভের মধ্যেই ঝাড়খণ্ডে ৩০নভেম্বর থেকে ২০ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন ধাপের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তখনই ধারণা ধারণা করা হচ্ছিল, নির্বাচনে বিলের বিরুদ্ধে মানুষের তীব্র প্রতিবাদের প্রভাব পড়তে পারে।
২০০০ সালে গঠিত ঝাড়খণ্ড রাজ্য গত মাসে ২০ বছরে পা দিয়েছে। এটি রাজ্যের চতুর্থ বিধানসভা নির্বাচন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


