দুটি পথ

Advertisement
ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির রাজনৈতিক বিষয়ক উপপ্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াদুল্লাহ জাওয়ানি বলেছেন, ইরানকে ঘিরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সামনে কোনো ভালো বিকল্প নেই; তাকে হয় ‘খারাপ’, নয়তো ‘আরও খারাপ’ পথের মধ্যে একটি বেছে নিতে হবে।

শনিবার শীর্ষস্থানীয় এ কমান্ডার সন্ধ্যায় বলেন, ‘যুদ্ধে ট্রাম্পের পরাজয় এখন সবার কাছেই স্পষ্ট। তার সামনে এখন দুটি পথ খোলা রয়েছে: খারাপ পথ অথবা আরও খারাপ পথ।’

জাওয়ানি বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্টকে এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে তিনি ইরানি জাতির অধিকার ও বাস্তবতাকে স্বীকার করবেন, নাকি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে আগ্রাসন অব্যাহত রাখবেন।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে শত্রুপক্ষ কৌশলগতভাবে বড় ধরনের ভুল করেছে।

জাওয়ানি বলেন, ‘এই লড়াইয়ে ইরান বিজয়ী হয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র পরাজয় ও পতনের পথে এগিয়ে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তেল আবিব সরকার ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক ও বিনা উসকানিতে সামরিক আগ্রাসন চালিয়েছিল। তাদের ধারণা ছিল কয়েক দিনের মধ্যেই বিজয় অর্জন সম্ভব হবে। তাদের কৌশলগত লক্ষ্য ছিল ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা, ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি নিষ্ক্রিয় করা এবং শেষ পর্যন্ত ইসলামি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করা।

আঞ্চলিক সমীকরণ এখন ইরানের পক্ষে পরিবর্তিত হয়েছে উল্লেখ করে ইয়াদুল্লাহ জাওয়ানি বলেন, ইসলামি প্রজাতন্ত্র বর্তমানে কৌশলগত হরমুজ প্রণালির ওপর প্রভাবশালী অবস্থান অর্জন করেছে এবং ৫০০ বছর পর ইরানি জাতির একটি বৈধ ও গুরুত্বপূর্ণ অধিকার পুনরুদ্ধার হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘ইরান এখন বিজয় ও শ্রেষ্ঠত্বের অবস্থানে রয়েছে। বর্তমান অচলাবস্থা নিরসনের জন্য ইসলামি প্রজাতন্ত্র তার শর্ত ঘোষণা করেছে। এখন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পালা যুক্তরাষ্ট্রের।’

ইয়াদুল্লাহ জাওয়ানি দেশের অর্জনসমূহ রক্ষার জন্য জাতীয় ঐক্য ও সংহতি বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।

তিনি বলেন, ‘সশস্ত্র বাহিনী, কূটনীতিক এবং সমাজের সব স্তরের মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে ঐকমত্য রয়েছে যে, আলোচনা ও চুক্তির মাধ্যমে হোক কিংবা অন্য কোনো উপায়ে, ইরানি জাতির অধিকার অবশ্যই নিশ্চিত করতে হবে।’

শত্রুপক্ষকে নতুন করে ভুল হিসাব না করার সতর্কবার্তা দিয়ে ইয়াদুল্লাহ জাওয়ানি বলেন, ইরানের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। শত্রু যদি আবার কোনো ভুল পদক্ষেপ নেয়, তাহলে ইরানের প্রতিক্রিয়া হবে আরও শক্তিশালী, আরও সিদ্ধান্তমূলক এবং কল্পনারও অতীত।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনেয়ী এবং কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কমান্ডারকে হত্যার পর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানের বিরুদ্ধে ব্যাপক সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। এর জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী ৪০ দিনের মধ্যে ১০০ দফা পাল্টা হামলা চালায়, যা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক স্থাপনাগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করে।

পরে পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ৮ এপ্রিল দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয় এবং ইসলামাবাদে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে ইরান মার্কিন সেনা প্রত্যাহার ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের দাবিসহ ১০ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করে। তবে ১১ ও ১২ এপ্রিল মোট ২১ ঘণ্টার নিবিড় আলোচনার পরও কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ইরানি প্রতিনিধিদল তেহরানে ফিরে যায়। তাদের মতে, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে কি না সে বিষয়ে গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেন যে, হরমুজ প্রণালিতে একটি নৌ অবরোধ আরোপ করা হবে, যার উদ্দেশ্য ছিল ইরানকে টোল প্রদানকারী জাহাজগুলোকে আটকানো।

ইরান স্পষ্ট করে জানিয়েছে, মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত আলোচনায় ফিরে যাওয়া সম্ভব নয়। তেহরানের মতে, এই অবরোধ যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘনের শামিল।
সূত্র: প্রেসটিভি

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Arif Arman is a journalist associated with Zoom Bangla News, contributing to news editing and content development. With a strong understanding of digital journalism and editorial standards, he works to ensure accuracy, clarity, and reader engagement across published content.