ভারতের পশ্চিমবঙ্গে ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত এক তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীর পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়েছেন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের ভাইপো ও দলটির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

শনিবার (৩০ মে) দক্ষিণ ২৪ পরগনার সোনারপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
তৃণমূল কংগ্রেসের অভিযোগ, নিহত কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে যাওয়ার সময় অভিষেকের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়। তার পরনের শার্টের বোতাম ছিঁড়ে যায় এবং তিনি যে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন সেটিও ভাঙচুর করা হয়।
প্রথমে কামালগাজির কাছে তাকে নারীরা কালো পতাকা দেখান। এরপর সোনারপুর ঢুকতেই অভিষেককে লক্ষ্য করে একের পর এক ডিম ও জুতা নিক্ষেপ করা হয়। এ সময় তাকে লক্ষ্য করে ‘চোর’ স্লোগান দেওয়া হয়। এলোপাথাড়ি চড়, থাপ্পড়, লাথি ও ঘুষি মারা হয় তাকে। মাথায় হেলমেট পরিয়ে ঘটনাস্থল থেকে তাকে বের করে নিয়ে যান নিরাপত্তারক্ষীরা।
পরে নিহত দলীয় কর্মী সঞ্জু কর্মকারের বাড়িতে অভিষেক পৌঁছে যান। গত ৩ মে নির্বাচনে পরাজয়ের পর এটাই ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রথম প্রকাশ্য কর্মসূচি। শনিবার নির্বাচন পরবর্তী সহিংসতায় আক্রান্ত ও নিহত তৃণমূল কংগ্রেস কর্মীদের বাড়িতে যাওয়ার কর্মসূচি নিয়েছিলেন অভিষেক।
প্রসঙ্গত, ওই এলাকার নারীরা জুতা, ডিম ও কালো পতাকা নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। পুলিশের পক্ষ থেকে সেই তথ্য অভিষেককে দেওয়া হয়। এরপরেই অভিষেক সোনারপুরে ঢোকার মুখে নিজের কনভয় ছেড়ে মোটরসাইকেলে করে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিস্থিতির মধ্যে মাথায় ক্রিকেটের হেলমেট পরে তিনি নিহত কর্মীর বাড়ির দিকে এগিয়ে যান। সেখানে পৌঁছে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন অভিষেক। তিনি অভিযোগ করেন, হেলমেট না থাকলে তার মাথায় গুরুতর আঘাত লাগতে পারত। হামলায় তার চশমাও ভেঙে গেছে বলে জানান তিনি।
অভিষেক বলেন, আমাকে আক্রমণ করা হয়েছে। কিন্তু আমি এখান থেকে চলে যাব না। নিহত কর্মীর বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে থাকব।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কর্মসূচির বিষয়ে আগে থেকেই জেলা প্রশাসন ও পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। কিন্তু ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না।
অভিষেক বলেন, পুলিশ না এলে এখান থেকে বের হবো না। যার ভাবছে ভোট লুঠ করে শাসন করব, তারা ভুল ভাবছে। লড়াইয়ের ময়দানে দেখা হবে। জনতার দরবারে দেখা হবে। লড়াইয়ের পথে তৃণমূল কংগ্রেস ছিল, আছে, থাকবে। আমাদের বিধায়কদের উপরে মিথ্যা মামলা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় পশ্চিমবঙ্গের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। সোনারপুরে অভিষেকের সফরের আগে বিভিন্ন স্থানে বিজেপি-সমর্থকদের কালো পতাকা হাতে বিক্ষোভ করতে দেখা যায়। তারা ‘গো ব্যাক’ স্লোগানও দেন।
এদিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে অভিষেক ভোট-পরবর্তী সহিংসতায় নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেন। এর আগে কলকাতার বেলেঘাটায় নিহত এক তৃণমূল কর্মীর পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তিনি।
আরও পড়ুনঃ
পরে নিজ বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় অভিষেক বলেন, রাজনৈতিকভাবে তাকে চাপে ফেলার চেষ্টা চলছে। তবে এসব কর্মসূচি থেকে তিনি সরে আসবেন না বলেও জানান।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



