
ভারতের রাজধানীতে গত তিনদিনের সহিংসতায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩৪য়ে পৌঁছেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও দুই শতাধিক মনুষ। এ অবস্থায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দাঙ্গাকারীদের থামাতে তেমন কোন ব্যবস্থাই নেয়নি দিল্লি পুলিশ। বরং অনেক ক্ষেত্রে তারা মুসলিমদের ওপর হামলা চালানোর সময় চরমপন্থী হিন্দুদের সাহায্য করেছে বলেও খবর প্রকাশ হতে শুরু করেছে।
এবার দিল্লি পুলিশের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার চরম অভিযোগ এনেছে ভারতের গোয়েন্দা বিভাগগুলি। তাদের অভিযোগ, রাজধানীতে হিংসার ঘটনা রুখতে দিল্লি পুলিশ আগেই ব্যবস্থা নিতে পারত, কিন্তু নেয়নি। দিল্লিতে যে বড় একটা সহিংসতা হতে যাচ্ছে এ বিষয়ে একবার বা দুবার নয়, গোয়েন্দা বিভাগ পুলিশকে সতর্ক করেছিল কমপক্ষে ছয়বার।
স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম আজকাল বলছে, বিজেপি নেতা কপিল মিশ্রের ‘উস্কানিমূলক’ভিডিও প্রকাশের পরই বারবার সতর্ক দিল্লি পুলিশকে সতর্ক করা হয়েছিল। স্পেশাল ব্রাঞ্চ ও ইন্টালিজেন্স উইং রেডিয়ো মেসেজের মাধ্যমে ছ’বার দিল্লি পুলিশকে সংঘর্ষ লাগার ব্যাপারে সতর্ক করেছিল।
কপিল মিশ্র রবিবার দুপুর ১.২২ মিনিটে সিএএ-এর সমর্থনে মৌজপুরে জমায়েত হওয়ার নির্দেশ দিয়ে একটি ট্যুইট করেন। তারপরেই দিল্লি পুলিশকে প্রথমবার সতর্ক করেন গোয়েন্দারা। বিজেপি নেতা কপিল মিশ্র মৌজপুরে জমায়েতের ডাক দেওয়ার পরেই সেখানে বড় ঝামেলা হতে পারে বলে খবর পেয়েছিলেন গোয়েন্দারা। সেই অনুযায়ী ওই অঞ্চলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করার পরামর্শও দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু কোনও অজ্ঞাত কারণে সেই সব সতর্ক বার্তা উপেক্ষা করে দিল্লি পুলিশ।
আর এ কারণে দিল্লি সহিংসতাকে অনেকে ২০০২ সালে গুজরাটে অনুষ্ঠিত মুসলিম নিধনের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ব্রিটিশ সংবাদ মাধ্যম বিবিসি বলছে, গুজরাট স্টাইলে দাঙ্গা হয়েছে দিল্লিতে। মোদি মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় গুজরাট দাঙ্গায় পুলিশ যে ভূমিকা নিয়েছিল, সোমবার থেকে বুধবার একই ভূমিকা পালন করেছে দিল্লি পুলিশ। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে দিল্লি পুলিশকে তিরস্কার করেছে হাইকোর্ট।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



