জাহিদ ইকবাল: দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক উন্নয়ন, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা জোরদার এবং তথ্যযুদ্ধের এই সময়ে দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার ভূমিকা নিয়ে ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের উত্তর ক্যাম্পাসে অবস্থিত ঐতিহাসিক গান্ধী ভবনে অনুষ্ঠিত হয়েছে সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম (এসজেএফ) আয়োজিত একটি গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সম্মেলন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। গতকাল (৬ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত এ আয়োজনে বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক নেতা, শিক্ষাবিদ ও শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে প্রাণবন্ত আলোচনা হয়।

সম্মেলনে বক্তারা সার্ক প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের দূরদর্শী উদ্যোগ ও অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারা বলেন, দক্ষিণ এশিয়াকে সহযোগিতা ও আস্থার বন্ধনে যুক্ত করার যে স্বপ্ন নিয়ে সার্ক প্রতিষ্ঠা হয়েছিল, তা এখনো পুরোপুরি বাস্তব রূপ পায়নি। সদস্য রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সন্দেহ, অবিশ্বাস এবং অপতথ্য বা ভুল তথ্যের বিস্তারই এই অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে সাংবাদিকদের সত্যনিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের ১২০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ে গঠিত সংগঠন ‘ভারতীয় বিশ্ববিদ্যালয় সংঘ’ (AIU)-এর যুগ্ম সম্পাদক অধ্যাপক ড. আলোক কুমার মিশ্র। সভাপতিত্ব করেন গান্ধী ভবনের পরিচালক অধ্যাপক ড. কে পি সিং। অতিথিরা তাদের বক্তব্যে বলেন, একবিংশ শতাব্দীর তথ্যপ্রবাহের যুগে সাংবাদিকদের কাজ শুধু সংবাদ পরিবেশন নয়—বরং সত্য যাচাই, বিভ্রান্তি প্রতিরোধ এবং মানুষের মধ্যে আস্থা তৈরির ক্ষেত্রেও তাদের ভূমিকা অপরিহার্য।
বক্তারা মহাত্মা গান্ধীর ‘সত্য’ ও ‘নৈতিকতা’ ভিত্তিক দর্শনের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, ফেক নিউজ ও অপপ্রচারের এই সময়ে গান্ধীজির সত্যের চর্চা সাংবাদিকতার জন্য এক অনন্য পথনির্দেশক হতে পারে। আঞ্চলিক সহাবস্থান, শান্তি ও সহযোগিতা প্রতিষ্ঠায় গণমাধ্যম কীভাবে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে—সে বিষয়েও বিশেষজ্ঞরা বিভিন্ন দিকনির্দেশনা তুলে ধরেন। পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় গান্ধীজির প্রকৃতি-ভাবনার প্রাসঙ্গিকতা নিয়েও আলোচনা হয়।

সার্ক জার্নালিস্ট ফোরাম ইন্ডিয়া চ্যাপ্টারের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—ড. রাজু লামা, চেয়ারম্যান, এসজেএফ সেন্ট্রাল কমিটি (নেপাল); আবদুর রহমান, সেক্রেটারি জেনারেল, এসজেএফ সেন্ট্রাল কমিটি (বাংলাদেশ); আসিফ হাসান নবী, ভাইস প্রেসিডেন্ট, এসজেএফ বাংলাদেশ চ্যাপ্টার; ড. অনিরুদ্ধ সুধাংশু, প্রেসিডেন্ট, এসজেএফ ইন্ডিয়া চ্যাপ্টার; এবং রাহুল সামন্ত, প্রেসিডেন্ট, এসজেএফ শ্রীলঙ্কা চ্যাপ্টার। এছাড়া সার্কভুক্ত বিভিন্ন দেশের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী অংশ নেন।
অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে এসজেএফ বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পক্ষ থেকে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসিফ হাসান নবী ও সেন্ট্রাল সেক্রেটারি আবদুর রহমান প্রধান অতিথি ও সভাপতির হাতে ‘সার্ক হরাইজন’ শীর্ষক একটি বিশেষ ম্যাগাজিন তুলে দেন।
সম্মেলনের শেষ পর্বে অতিথিবৃন্দ গান্ধী ভবন প্রাঙ্গণে আঞ্চলিক বন্ধুত্ব, সহযোগিতা ও টেকসই ভবিষ্যতের প্রতীক হিসেবে একটি করে গাছের চারা রোপণ করেন।
আরও পড়ুনঃ
আয়োজকরা আশা প্রকাশ করেন, এই উদ্যোগ দক্ষিণ এশিয়ার সাংবাদিকদের মধ্যে নতুন সংযোগ, আস্থা ও সহযোগিতার দ্বার আরও উন্মুক্ত করবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


