জুমবাংলা ডেস্ক : মজুরি কমিশন বাস্তবায়নসহ ১১ দফা দাবিতে খুলনা অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকদের আমরণ অনশনসহ সব ধরনের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে ফার্মগেটের জুট ডাইভারসিফিকেশন প্রমোশন সেন্টার (জেডিপিসি) কার্যালয়ে বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রী মন্নুজান সুফিয়ানের সঙ্গে বৈঠকের পর কর্মসূচি স্থগিতের ঘোষণা দেন শ্রমিক নেতারা।
গত রোববার দুপুর থেকে খুলনার খালিশপুর শিল্পাঞ্চলের বিআইডিসি সড়কে ক্রিসেন্ট, প্লাটিনাম, স্টার, খালিশপুর ও দৌলতপুর জুট মিলের শ্রমিকরা আমরণ অনশন কর্মসূচি শুরু করেন। অন্য চারটি পাটকলের শ্রমিকরা তাদের নিজ নিজ মিলের সামনে এ কর্মসূচি পালন করছেন।
বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অসুস্থ ১৮ শ্রমিককে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা পাটকল শ্রমিকদের অনশনস্থলে গিয়ে আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানান। রাজশাহীতে অনশনে অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন ছয় শ্রমিক। এ ছাড়া নরসিংদীতে অসুস্থ হয়ে পড়েন চারজন। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল এক বিবৃতিতে পাটকল শ্রমিকদের ন্যায্য দাবি মেনে না নেওয়ায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন।
দুই মন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ নন-সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক আব্দুল হামিদ সরদার আন্দোলন প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পে-স্লিপ পাওয়ার আশ্বাসে কর্মসূচি স্থগিত করা হয়েছে। যদি পে-স্লিপ না পাওয়া গেলে ১৭ জানুয়ারি থেকে আবারও কর্মসূচি চলবে। পাটমন্ত্রী তাদের জানিয়েছেন, ১৬ জানুয়ারি থেকে জাতীয় মজুরি স্কেল ২০১৫ কার্যকর হবে।
এদিকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে মজুরি স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়নের আশ্বাস দিয়েছে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশন (বিজেএমসি)। সংস্থাটির চেয়ারম্যান আব্দুর রউফের সই করা এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী এবং শ্রম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে মজুরি স্কেল-২০১৫ বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এতে শ্রমিকদের পক্ষে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ পাটকল শ্রমিক লীগ ও রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-নন সিবিএ সংগ্রাম পরিষদের নেতারা। আলোচনায় দুই মন্ত্রী আশ্বাস দেন ১৫ দিনের মধ্যে শ্রমিকদের জাতীয় মজুরি স্কেল-২০১৫-এর মজুরি স্লিপ দেওয়া হবে। মন্ত্রীদের আশ্বাসের ভিত্তিতে শ্রমিক নেতারা অনশনসহ সব আন্দোলন কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন। ঘোষণা অনুযায়ী শ্রমিকদের কাজে যোগদানের আহ্বান জানিয়েছে বিজিএমসি।
এদিকে আন্দোলনরত শ্রমিকরা জানান, গত পাঁচ দিনে মোট ১৮ শ্রমিক অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। গতকাল সকাল সাড়ে ১১টায় পাটকল শ্রমিকদের সন্তানরা বিভিন্ন দাবিসংবলিত প্ল্যাকার্ড নিয়ে খালিশপুর শিল্পাঞ্চলে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। তারা নতুন রাস্তার মোড়ে গিয়ে প্রায় ২০ মিনিট খুলনা-যশোর মহাসড়কের ওপর অবস্থান নেয়। দুপুর দেড়টায় গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরী অনশনস্থলে গিয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করেন। এ সময় তিনি বলেন, সরকার শ্রমিকদের দাবি বাস্তবায়নে অবহেলা করছে। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে ১১ দফা দাবির মধ্যে ১০ দফা একদিনের মধ্যে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। পরে জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীর পক্ষ থেকে অনশনরত শ্রমিকদের মধ্যে ৩০০ কম্বল বিতরণ করা হয়।
রাষ্ট্রায়ত্ত পাটকল সিবিএ-ননসিবিএ সংগ্রাম পরিষদের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. খলিলুর রহমান জানান, মজুরি কমিশন কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত পাটকল শ্রমিকরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
এদিকে, সকাল সাড়ে ১১টায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে পাটকল শ্রমিকদের দাবির সমর্থনে মানববন্ধন করে মহানগর বিএনপি। বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও মহানগর সভাপতি নজরুল ইসলাম মঞ্জুর সভাপতিত্বে মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জেলা সভাপতি এস এম শফিকুল আলম মনা, মনিরুজ্জামান মনি, আমীর এজাজ খান, মীর কায়সেদ আলী, শেখ মোশারফ হোসেন প্রমুখ।
নরসিংদী প্রতিনিধি জানান, নরসিংদীর ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকরা তীব্র শীত উপেক্ষা করে রাতভর অনশনস্থলে অবস্থান করেন। পঞ্চম দিন গতকাল সকাল থেকে মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে অনশন করেন তারা। সকাল ১১টায় অনশনরত শ্রমিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেছে ইউএমসি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এসব শিক্ষার্থী ইউএমসি জুট মিলের শ্রমিকদের সন্তান। দীর্ঘ অনশনে চার শ্রমিক গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাদের অনশনস্থলেই স্যালাইন দেওয়াসহ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হয়। সূত্র : সমকাল
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


