একটি আইফোন উপহার দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে এক আদিবাসী নারীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভারতের ত্রিপুরার এক সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রোববার (১৭ মে) পুলিশ কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে গত ১৬ মে গভীর রাতে গ্রেপ্তার করা হয়। ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS)-এর ৬৫(১) এবং ৩৫১(২) ধারার অধীনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে অভিযুক্তকে।
এ ঘটনায় আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি ত্রিপুরার ধলাই জেলার কামালপুর এলাকার বাসিন্দা। কয়েক মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে ওই নারীর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল তার।
পুলিশ জানায়, সোশ্যাল মিডিয়িার মাধ্যমে নিয়মিত যোগাযোগ রাখতেন তারা। পরে একটি দামি আইফোন দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ওই নারীকে আগরতলায় আসার জন্য রাজি করায় অভিযুক্ত ব্যক্তি। ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগ অনুযায়ী―গত ১৬ মে সকালে ওষুধ কেনার জন্য ট্রেনে করে আগরতলায় যান তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেল নিয়ে বাধারঘাট রেলওয়ে স্টেশনে দেখা করতে যায়। তাদের প্রথমে যেখানে যাওয়ার কথা ছিল, সেখানে না গিয়ে ওই নারীকে স্টেশনের কাছে একটি হোটেলে নিয়ে যায় গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তি।
ভুক্তভোগী নারী অভিযোগ করেছেন, হোটেলে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে এবং তিনি বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তাকে শারীরিক নির্যাতন করা হয়। আর হোটেল ছাড়ার আগে তার ফোন কেড়ে নেয় এবং পরিস্থিতি খারাপ হওয়ারও হুমকি দেয় অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটর। পরে কোনোভাবে হোটেল থেকে বের হয়ে পশ্চিম আগরতলা নারী থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দেন ভুক্তভোগী।
এরপর ইন্সপেক্টর শিউলি দাসের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ঘটনার রাতে আগরতলার লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ি এলাকার কাছে অভিযুক্তের একটি মোবাইল ফোন দোকানে অভিযান চালায়। সেখান থেকে তাকে আটক করা হয় এবং পরে তাকে আমতলী থানায় হস্তান্তর করা হয়। তারপর রোববার আনুমানিক রাত ২টার দিকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয় অভিযুক্ত কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অভিযুক্তের আগরতলায় দুটি মোবাইল ফোনের দোকান রয়েছে। এর মধ্যে সিদ্ধি আশ্রম ও লক্ষ্মীনারায়ণ বাড়ির কাছের দোকানগুলোও অন্তর্ভুক্ত। পাশাপাশি স্থানীয়ভাবে একজন জনপ্রিয় সোশ্যাল মিডিয়া কনটেন্ট ক্রিয়েটর।
কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিবাহিত এবং তার সন্তান রয়েছে। সে আগরতলার গাঙ্গাইল রোড এলাকায় বসবাস করছিলেন।
এদিকে পুলিশ অভিযোগ করেছে, কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আটক করে থানায় আনার পর ওই ব্যক্তি তার কথিত প্রভাব ও উচ্চপদস্থ যোগাযোগের দোহাই দিয়ে থানায় ভয় প্রদর্শনের চেষ্টা করেছিল।
ইন্সপেক্টর পরিতোষ দাস নিশ্চিত করেছেন, পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়ার জন্য গ্রেপ্তার কনটেন্ট ক্রিয়েটরকে আদালতে হাজির করা হয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



