
শনিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে নবাগত উপজেলা নির্বাহী অফিসার আরিফুল হক মৃদুলের সঙ্গে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধাদের এক পরিচিতি ও মতবিনিময় সভায় তারা এ ঘোষণা দেন।
এ সময় মুক্তিযোদ্ধা তালিকা নতুন করে আবারও যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার বিরোধিতা করেন তারা।
মতবিনিময় সভায় মুক্তিযোদ্ধারা সরাইলের মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য একটি কবরস্থান করার দাবি জানালে তা দ্রুত বাস্তবায়নের আশ্বাস দেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।
উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার সাবেক উপ-পরিচালক মুক্তিযোদ্ধা এম.এ. মোতালেব, সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ. এম.এম নাজমুল আহমেদ, উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক অ্যাডভোকেট আবদুর রাশেদ, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার আনোয়ার হোসেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা মেজবাহ উদ্দিন, মুক্তিযোদ্ধা কামাল খাঁ, উপজেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি মাহফুজ আলী প্রমুখ।
সভায় মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, নানা কলাকৌশলে অনেক অমুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযোদ্ধার তালিকাভুক্ত হয়েছেন। তারাই আজ প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা যাচাই-বাছাই কমিটির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছেন। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত অপমানজনক। রাজাকারের উত্তরসূরীরা আজ সরকারের ভেতরে কৌশলে প্রবেশ করছে। এরাই সরকারকে বেকায়দায় ফেলার জন্য নানা ষড়যন্ত্র করছে।
তারা বলেন, ১৯৭১ সালে বুকে বুলেট নিয়েছি। পরাজিত হয়নি। এখনও রাজাকারের কাছে পরাজিত হব না।
মুক্তিযোদ্ধারা বলেন, মহিলা সংসদ সদস্য সরাইলে যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য হিসেবে যার নাম প্রস্তাব করেছেন। তিনি একজন অমুক্তিযোদ্ধা এবং তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের খুনি তাহের উদ্দিন ঠাকুরের আত্মীয়। তিনি কয়েকদিন আগে কৌশলে মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। আমরা তাকে মেনে নিতে পারি না। তিনি সরাইলের এক অনুষ্ঠানে কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধাকে উত্তরীয় পরাননি। অথচ সম্প্রতি আশুগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে জামায়াতের আমিরকে সংবর্ধনা দিয়েছেন।
অনুষ্ঠানে মুক্তিযোদ্ধারা সরাইলে যে কোনো অনুষ্ঠানে সাংসদ উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম শিউলী আজাদ উপস্থিত থাকলে তা বর্জনের ঘোষণা দেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার ইসমত আলী বলেন, সরাইলে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় ৩০২ জনের নাম রয়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধকালীন সরাইল থানা কমান্ডার আবদুস সালামসহ ৭৭ জনের নাম যাচাই-বাছাই তালিকায় প্রকাশ করা হয়েছে। এই ৭৭ জনের মধ্যে ১২ জন ইতিমধ্যে মারা গেছেন। এ তালিকা নিয়ে আমরা বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়েছি। বিষয়টি নিয়ে ইউএনও’র সঙ্গে মতবিনিময় সভায় আমাদের কথা তুলে ধরেছি।
এ ব্যাপারে সংরক্ষিত-৩১২ মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ও সরাইল উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহবায়ক উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগম ওরফে শিউলি আজাদ সাংবাদিকদের বলেন, এটা আমার বিরুদ্ধে একটি ষড়যন্ত্র। কেন তারা এমন করেছেন তা বুঝতে পারছি না। এরা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



