বিশ্বের সবচেয়ে বয়স্ক স্থলজ প্রাণী হিসেবে পরিচিত কচ্ছপ জোনাথনকে নিয়ে হঠাৎ করেই ছড়িয়ে পড়ে তার মৃত্যুর খবর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি আবেগঘন পোস্টের মাধ্যমে দাবি করা হয়, দীর্ঘ জীবন শেষে সে শান্তিপূর্ণভাবে মারা গেছে। এমন সংবেদনশীল বার্তা খুব দ্রুতই মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে সেটিকে সত্য বলে ধরে নেন।

পোস্টটি করা হয়েছিল জোনাথনের দীর্ঘদিনের পশুচিকিৎসক জো হলিন্সের নামে একটি ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে। সেখানে তার জীবনযাপন, স্বভাব, এমনকি কলা খাওয়ার অভ্যাসের কথাও তুলে ধরা হয়। ভাষা ছিল এমনই মানবিক ও আবেগপূর্ণ যে, অনেকেই বিন্দুমাত্র সন্দেহ না করে তা শেয়ার করতে শুরু করেন।
ঘটনার অল্প সময়ের মধ্যেই আন্তর্জাতিক কয়েকটি সংবাদমাধ্যমও এই খবর প্রকাশ করে ফেলে। তবে পরে বিষয়টি যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ঘটনাটিই ছিল সাজানো। তদন্তে উঠে আসে, অ্যাকাউন্টটি ব্রাজিল থেকে পরিচালিত একটি ভুয়া প্রোফাইল, যার মূল উদ্দেশ্য ছিল মানুষের আবেগকে কাজে লাগিয়ে ক্রিপ্টোকারেন্সিতে অনুদান আদায় করা।
জো হলিন্স নিজেই পরে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি জানান, তিনি কখনো এক্স ব্যবহার করেন না এবং এই অ্যাকাউন্টের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক নেই। তার ভাষায়, এটি কোনো নিরীহ মজা নয়, বরং পরিকল্পিত প্রতারণা।
গুজব ছড়িয়ে পড়ার পর সেন্ট হেলেনার গভর্নর নাইজেল ফিলিপস নিজে গিয়ে জোনাথনের খোঁজ নেন। দেখা যায়, গভর্নর হাউসের প্রাঙ্গণে একটি গাছের নিচে নিশ্চিন্তে ঘুমাচ্ছে কচ্ছপটি। পরদিন সকালে তার একটি ছবি তোলা হয়, যেখানে তাকে সুস্থ ও স্বাভাবিক অবস্থায় দেখা যায়।

১৯৪৭ সালে সেন্ট হেলেনায় জোনাথনের (বিখ্যাত কচ্ছপ) সঙ্গে দেখা করছেন রাজপরিবারের সদস্যরা, যার মধ্যে রয়েছেন রাজা ষষ্ঠ জর্জ, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ (তখনকার প্রিন্সেস এলিজাবেথ), প্রিন্সেস মার্গারেট এবং কুইন মাদার (তৎকালীন রানি এলিজাবেথ)। ছবি: সংগৃহীত
জোনাথনকে ১৮৮২ সালে সেন্ট হেলেনায় আনা হয়েছিল উপহার হিসেবে। তারপর থেকেই সে সেখানে বসবাস করছে। বয়সের কারণে এখন সে প্রায় অন্ধ এবং ঘ্রাণশক্তিও কমে গেছে, কিন্তু খাওয়ার প্রতি তার আগ্রহ এখনো অটুট, বিশেষ করে কলার প্রতি।
স্থানীয়দের কাছে জোনাথন শুধু একটি প্রাণী নয়, বরং দ্বীপের ইতিহাসের অংশ। তাই তার মৃত্যুর ভুয়া খবর স্বাভাবিকভাবেই উদ্বেগ তৈরি করে। একই সঙ্গে এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, অনলাইনে দেখা সব তথ্যই যে সত্য নয়, তা যাচাই করা জরুরি।
আরও পড়ুনঃ
বর্তমানে জোনাথন সুস্থ আছে এবং স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে। তবে এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভুয়া তথ্যের ঝুঁকি ও প্রতারণার নতুন কৌশল নিয়ে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে অনেককে।
সূত্র: সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


