মহাকাশের গভীরে হঠাৎই যেন এক অদ্ভুত ঘটনা! একটি ছোট ধূমকেতুর আগে গতি কমলো, তারপর একসময় প্রায় থেমে গেল। আর এরপর যা ঘটল, তা দেখে অবাক বিজ্ঞানীরা—ধূমকেতুটি উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করল!

ধূমকেতু

Advertisement

এই ধূমকেতুর নাম Comet 41P/Tuttle-Giacobini-Kresak, সংক্ষেপে ৪১পি। বিজ্ঞানীরা নাসার হাবল টেলিস্কোপ ব্যবহার করে এই অদ্ভুত পরিবর্তন দেখেছেন।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই ধূমকেতুটি এসেছে কুইপার বেল্ট (সূর্যের অনেক দূরের বরফময় অঞ্চল) থেকে। পরে বৃহস্পতি গ্রহের টানে এটি এখন সূর্যের কাছাকাছি এলাকায় ঘোরে। প্রতি ৫.৪ বছরে একবার সূর্যকে ঘুরে আসে।

২০১৭ সালে সূর্যের কাছে আসার পর এর ঘোরার গতি বদলে যায়। আগে দ্রুত ঘুরলেও পরে অনেক ধীর হয়ে যায়। এমনকি প্রায় থেমে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। তারপর ধীরে ধীরে উল্টো দিকে ঘোরা শুরু করে।

কেন এমন হলো? বিজ্ঞানীরা বলছেন, ধূমকেতুর গায়ে বরফ থাকে। সূর্যের কাছে গেলে এই বরফ গরম হয়ে গ্যাসে পরিণত হয়। সেই গ্যাস বাইরে বেরিয়ে আসে। এই গ্যাস যেন ছোট ছোট ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। সব দিক থেকে সমানভাবে না বের হলে ধূমকেতুর ঘোরার দিক বদলে যেতে পারে।

গবেষক ডেভিড জেউইট বিষয়টি সহজ করে বলেন, যেমন একটি দোলনা একদিকে ঘুরছে, আপনি যদি উল্টো দিকে ঠেলা দেন, তাহলে তা ধীরে হয়ে শেষে উল্টো দিকে ঘুরতে পারে।

এই ধূমকেতুটি আকারে ছোট—প্রায় ১ কিলোমিটার চওড়া (আইফেল টাওয়ারের তিন গুণ উচ্চতার মতো)। ছোট হওয়ায় এর ওপর এই পরিবর্তনের প্রভাব বেশি পড়ে।

আরও এক চমক—সময় যত যাচ্ছে, এর গ্যাস বের হওয়ার ক্ষমতা কমছে। ২০০১ সালের তুলনায় ২০১৭ সালে প্রায় ১০ গুণ কম সক্রিয় ছিল। অর্থাৎ, এর বরফ ফুরিয়ে যাচ্ছে বা উপরে ধুলার স্তর জমছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাধারণত এমন পরিবর্তন হতে শত-হাজার বছর লাগে। কিন্তু ৪১পি খুব দ্রুত বদলাচ্ছে। তাই এটি বিজ্ঞানীদের জন্য কম সময়েই মহাকাশের রহস্য বোঝার একটি বড় সুযোগ।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Mynul Islam Nadim is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency for digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and audience-focused reporting.