
যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের চলমান উত্তেজনার মধ্যে কূটনৈতিক সমাধানের নতুন সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা চলছে। মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আপাতত সরাসরি বড় সামরিক সংঘাতে জড়াতে চান না। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে তিনি আঞ্চলিক পরিস্থিতি আরও অস্থিতিশীল হোক, তা চান না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রয়টার্স বলছে, টানা ৪০ দিনের সংঘাতের পর ৭ এপ্রিল অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র। এরপর পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় একাধিক দফা পরোক্ষ আলোচনা হলেও, এখনও স্থায়ী কোনো সমঝোতা হয়নি।
একইসময়ে কূটনৈতিক তৎপরতা যেমন চলছে, পাশাপাশি উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইরান দুপক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলা করছে। ইরানের আইআরজিসি জানিয়েছে, যেকেনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত তারা।
কাতারের হামাদ বিন খলিফা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুলতান বারাকাত আল জাজিরাকে বলেন, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা ওয়াশিংটনকে একটি জটিল ভারসাম্যের মধ্যে ফেলেছে। একদিকে চাপ বজায় রাখা, অন্যদিকে পূর্ণমাত্রার সংঘাত এড়ানো-দুই লক্ষ্য একসাথে সামলাতে হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রকে।
তিনি বলেন, ট্রাম্প যুদ্ধে যেতে রাজি নন, বিশেষ করে বিশ্বকাপের আগে। বিশ্বকাপ চলাকালে যুদ্ধ পরিস্থিতি তৈরি হোক, এটা তিনি একেবারেই চান না। যা একটি অস্থায়ী সমঝোতা বা উত্তেজনা প্রশমনের সুযোগ তৈরি করতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা নয়, বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে বড় যুদ্ধ, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক অর্থনীতি ও যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও।
একই সাথে ইসরায়েলের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। যেখানে নিজেদের স্বার্থে তারা পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করছে বলে দাবি বিশ্লেষকদের।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকরা বলছেন, নিকট ভবিষ্যতে বড় কূটনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও, পর্দার আড়ালে আলোচনা ও যোগাযোগ চলছে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত সংবেদনশীল; যেকোনো ছোট ঘটনাও বড় সংকটের কারণ হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


