শ্রীলংকার পর কলকাতায় শুটিং চলছে বাংলাদেশের শাকিব খানের সিনেমা ‘প্রিন্স’-এর। বাইকে চেপে বউবাজারে ঘুরতে দেখা গেছে ঢালিউড কিং খানকে। চুলে লালচে আভা ও রুখু ভাব। হাওয়ায় অবিন্যস্ত। মুখে ঘন দাড়ি-গোঁফ। দুপুরের গনগনে রোদে মুখচোখ রাঙা। বুক খোলা জিনসের জ্যাকেটের ভেতর থেকে ফুলছাপ শার্টের উঁকিঝুঁকি। বাইকে চেপে বউবাজারের মাধো ভবনের বাইরে পা রাখতেই পথচারীদের চোখ কপালে। কলকাতার রাস্তায় শাকিব খান।

শহরজুড়ে যেন শাকিব মৌসুম। নায়কের পেছনে ক্যামেরা ছুটছে। কখনো তিনি অ্যাকশন দৃশ্যে, কখনো বাইকে চেপে স্টান্ট দিচ্ছেন। আবার তাকে ঘিরে দুই নায়িকা তাসনিয়া ফারিণ ও জ্যোতির্ময়ী কুন্ডু। আর লোকনাথ দে, পিয়ান সরকার, মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্যের মতো টালিউডের একঝাঁক অভিনেতা।
শ্রীলংকার পর ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে কলকাতায় নিঃশব্দে শুটিং চলছে পরিচালক আবু হায়াত মাহমুদের আসন্ন ঈদের সিনেমা ‘প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা’র। হাওড়া, বউবাজার, আলিপুর জেল হয়ে ভারতলক্ষ্মী স্টুডিও— সর্বত্র শাকিব খানের গতিবিধি।
হাওড়ার শালিমার ওয়ার্ক। বহু বছর ধরে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা পুরোনো কারখানা। কিছু যন্ত্রাংশ, পুরোনো শেড এখনো যত্রতত্র ছড়িয়ে। এখানেই ৯ ফেব্রুয়ারি থেকে টিম নিয়ে সারারাত ধরে শুটিং চলছে। এ সিনেমার মূল প্লট— নব্বইয়ের দশকের ত্রাস ‘কালা জাহাঙ্গীর’কেই নাকি পর্দায় ফোটাতে চলেছেন কিং খান। একজন ভালো মানুষ কী করে কুখ্যাত গ্যাংস্টার হয়ে ওঠেন, দেখাবে আবু হায়াত মাহমুদের ‘প্রিন্স’। তারই টুকরো অংশ, কিছু অ্যাকশন দৃশ্যের শুটিং হয় হাওড়ায়।
গত ১১ ফেব্রুয়ারি বউবাজারের মাধো ভবন। মধ্য কলকাতার ক্রসিংয়ে বিশাল এলাকাজুড়ে অবস্থিত হালকা হলুদ রঙের বাড়িটির গায়ে সময়ের পলি। ঔজ্জ্বল্য হারিয়ে কিঞ্চিত ফ্যাকাশে। ভবনের সিংহদ্বারের দুই পাশে হরেক কিসিমের দোকান। সকাল থেকে ওই ভবন ধোঁয়ায় আবছা। কৌতূহলী পথচারী খানিক দাঁড়িয়ে বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করছিলেন। কাজের তাড়ায় তারপরেই হনহনিয়ে এগিয়ে গেছেন গন্তব্যে। হঠাৎ জোরালো কণ্ঠে হাঁক— ‘অ্যাকশন’! ধীরে ধীরে ধোঁয়া ফুঁড়ে বেরিয়ে এলো একটি বাইক।
যিনি বসে তাকে দেখলেই মনে হবে, আর পাঁচজন সাধারণের মতো তিনি নন। কেউ খেয়াল করেনি, ওই ‘অ্যাকশন’ হাঁক শুনেই ভিড় জমেছে বাইকারোহীর পেছনে! তিনি দর্শকদের দিকে মুখ ফেরাতেই অস্ফুট গুঞ্জন— দুই বাংলার জনপ্রিয় নায়ক শাকিব খান!
কলকাতা সজাগ হওয়ার আগে টিম ঘিরে নিয়েছিল নায়ককে। তিনি আবার মাধো ভবনের অন্দরে অদৃশ্য। তার হয়ে ‘ডামি শুট’-এ ব্যস্ত শরিফ সিরাজ। বাংলাদেশের এ অভিনেতার সঙ্গী আরেক বাংলাদেশি অভিনেতা মাহমুদ।
টালিউডের সিনেমা ও সিরিজ যাকে ছাড়া অসম্পূর্ণ, তিনি সেই লোকনাথ দে। পর্দায় তার নাম গোপাল কর। মাথার সাড়ে তিনটে চুল উল্টে আঁচড়ানো। পেছনে লম্বা বিনুনি! পরনে কালো শার্ট আর কালো সিল্কের লুঙ্গি। কপালে লাল তিলক। শাকিব অভিনীত ‘তুফান’ সিনেমাতেও লোকনাথ ছিলেন নায়কের ডান হাত। পরপর দুটো ছবিতে অভিনয়ের সুবাদে নায়কের সঙ্গে সখ্য হয়েছে। পর্দায় গোপালের দুই শাগরেদ সিরাজ ও মাহমুদ।
অভিনেতা লোকনাথ ওরফে ‘গোপাল কর’-এর স্ত্রীর ভূমিকায় দেখা যাবে পিয়ান সরকারকে। সিনেমায় লোকনাথের মৃত্যুর পর তিনি বসবেন স্বামীর গদিতে। হয়ে উঠবেন লেডি ডন। হাত মেলাবেন শাকিব ওরফে ‘কালা জাহাঙ্গীর’-এর সঙ্গে।
কুখ্যাত ডন হতে গেলে আগ্নেয়াস্ত্র চালানোয় দক্ষ হতে হয়। শাকিবকে পর্দায় সে ব্যাপারে প্রশিক্ষণ দেবেন কে? নায়কের অন্যতম নায়িকা ‘দিলরুবা’র ভাই ‘বাবু’ এ বিষয়ে সহযোগিতা করবে। ‘বাবু’ চরিত্রে অভিনয় করছেন ছোটপর্দার জনপ্রিয় মুখ মৃত্যুঞ্জয় ভট্টাচার্য। শাকিবের সঙ্গে তার মাত্র দিন দুই শুটিং হয়েছে। ছবিতে তারও মৃত্যু হবে। ‘দিলরুবা’ চরিত্রে অভিনয় করছেন তাসনিয়া। তবে তার সঙ্গে জ্যোতির্ময়ীর সরাসরি কোনো দৃশ্য নেই। এ ছবি দিয়ে বাংলাদেশে পা রাখছেন অভিনেত্রী।
এ সিনেমায় ক্যামেরার কাজ সামলাচ্ছেন বলিউডের অমিত রায়, শৈলেশ অবস্থী। রণবীর কাপুর অভিনীত ‘অ্যানিমেল’ সিনেমার চিত্রগ্রাহক ছিলেন অমিত। শ্রীকান্ত মেহতা, অশোক ধনুকার মতো কলকাতার প্রথম সারির প্রযোজকদের সিনেমায় ক্যামেরা সামলেছেন শৈলেশ। অ্যাকশন আর রোম্যান্সে ভরপুর প্রিন্স: ওয়ান্স আপন এ টাইম ইন ঢাকা সিনেমার প্রযোজক শিরিন সুলতানা (ক্রিয়েটিভ ল্যান্ড ফিল্মস)।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


