ঢাকাই চলচ্চিত্রের নব্বই দশকের রোমান্টিকতার আইকন শাবনাজ–নাঈম। পর্দার পাশাপাশি এই যুগলের বাস্তব জীবনের গল্পও বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে এক অনুপ্রেরণার নাম। সময় পেরিয়েছে, তার সঙ্গে আলো-ঝলমলে ক্যামেরার ফ্রেম বদলালেও এই জুটিকে নিয়ে এখনো দর্শকের আগ্রহ রয়েছে। গেল বছরের অক্টোবরে বৈবাহিক জীবনের ৩১তম বছর পূর্ণ করেছেন তারা। এবার তাদের জীবনে এলো আরেকটি আনন্দঘন অধ্যায়—বড় মেয়ে মাহাদিয়া নাঈমের বিয়ে।

শাবনাজ–নাঈমের বড় মেয়ের জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু হয়েছে গেল বছরের ২৪ ডিসেম্বর। ঢাকার উত্তরায় পারিবারিক আয়োজনের মধ্য দিয়ে মাহাদিয়া নাঈমের বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় ইহসান মনসুর চৌধুরীর সঙ্গে। ঘনিষ্ঠজনদের উপস্থিতিতে হওয়া এই আয়োজনে ছিল সাদামাটা সৌন্দর্য আর পারিবারিক উষ্ণতা। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন শাবনাজ ও নাঈম নিজেই।
শিক্ষা ও ক্যারিয়ারের দিক থেকেও মাহাদিয়া বেশ এগিয়ে। তিনি কানাডার একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে স্নাতক শেষ করেছেন। সম্প্রতি উচ্চশিক্ষার জন্য পাড়ি জমিয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে। সেখানেই থাকেন তাঁর জীবনসঙ্গী ইহসান মনসুর চৌধুরী, যাঁর পরিবারও স্থায়ীভাবে সিডনিতে বসবাস করেন। জানা গেছে, মাহাদিয়া ও ইহসানের মধ্যে আগে থেকেই প্রেমের সম্পর্ক ছিল, যা পারিবারিক সম্মতিতে পরিণতি পেয়েছে বিয়েতে।
মেয়ের বিয়ের খবর জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন নাঈম। সেখানে তিনি নবদম্পতির জন্য সবার দোয়া কামনা করে আল্লাহর দরবারে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। মেয়েকে বিদায় দেওয়ার অনুভূতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নাঈম বলেন, আগেও পড়াশোনার জন্য মাহাদিয়া দেশের বাইরে গেছে, কিন্তু এবারের বিদায়টা ছিল ভিন্ন। বাবা হিসেবে মন খারাপের জায়গা থাকলেও মেয়েকে একটি ভালো পরিবারে তুলে দিতে পেরেছেন—এই স্বস্তিটাই বড়।
মায়ের অনুভূতিও কম গভীর নয়। শাবনাজ বলেন, মা–বাবার কাছে মেয়ের চিন্তা কখনোই শেষ হয় না। তবে আলহামদুলিল্লাহ, মাহাদিয়ার জন্য তাঁরা শুধু ভালো একজন জীবনসঙ্গীই পাননি, পেয়েছেন একটি সুন্দর পরিবারও। এতে তাঁদের মন অনেকটাই নিশ্চিন্ত।
আরও পড়ুনঃ
বড় বাজেটের ছবির ভিড়েও বক্স অফিস দাপিয়ে বেড়াচ্ছে রানি মুখার্জির ‘মারদানি থ্রি’
১৯৯১ সালে এহতেশাম পরিচালিত ‘চাঁদনী’ সিনেমার মাধ্যমে প্রথমবার একসঙ্গে বড় পর্দায় হাজির হন নাঈম ও শাবনাজ। সেই ছবিই তাঁদের দুজনের তারকাখ্যাতির ভিত্তি গড়ে দেয়। পরে ‘বিষের বাঁশি’ সিনেমায় কাজ করতে গিয়ে পর্দার রোমান্স বাস্তব জীবনে রূপ নেয় ভালোবাসায়। সেই ভালোবাসার পরিণতি ঘটে ১৯৯৪ সালের ৫ অক্টোবর, তাঁদের বিয়ের মাধ্যমে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


